প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টারে অগ্নিসংযোগকারীরা শরিফ ওসমান হাদিকে ধারণ করে না মন্তব্য করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, তারা এই আন্দোলন ও বিক্ষোভকে ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে হাদির মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পরপরই শাহবাগে জড়ো হয় ছাত্র-জনতা। সেখানে উপস্থিত হয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমাদের গন্তব্য কী? আমাদের লক্ষ্য কী? শরিফ ওসমান হাদি ভাই কী প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন? তিনি ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বাংলাদেশপন্থী সাংস্কৃতিক লড়াই এবং আধিপত্যবাদ-বিরোধী সাংস্কৃতিক লড়াইয়ের জন্য শরিফ ওসমান হাদি ভাই ছিলেন। আমাদের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান, নিজস্ব মিডিয়া এবং নিজস্ব কালচারাল সেন্টার তৈরি করতে হবে। আমরা আজকে শুনেছি এবং দেখেছি, আজকে রাতে প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টারে অগ্নিসংযোগ ঘটানো হয়েছে; আমরা খুব স্পষ্টভাবে বলতে চাই, যারা এই কাজ করেছে তারা শরিফ উসমান হাদি ভাইকে ধারণ করে না।’
তিনি বলেন, তারা এই আন্দোলন ও বিক্ষোভকে ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। অবশ্যই প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার নিয়ে আমাদের সমালোচনা ও বিরোধিতা রয়েছে, আমরা সেই কথা সবসময় বলে যাব, তবে আমাদের আদর্শকে ধারণ করে এমন প্রতিষ্ঠান দিয়েই আমরা এই ধরনের প্রতিষ্ঠানকে মোকাবেলা করব। কিন্তু পুরো বাংলাদেশ যখন শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কথা, তখন বাংলাদেশকে বিভাজিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিকভাবে দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে যে, এখানে মিডিয়ায় আগুন লাগানো হচ্ছে ও হটকারিতা হচ্ছে। এগুলো যারা করছে তারা খুবই পরিকল্পিতভাবে করছে যাতে আমরা আন্দোলন গড়ে তুলতে না পারি। ফলে আমরা আহ্বান জানাবো, আপনারা সতর্ক থাকবেন। আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব এবং শরিফ ভাইকে গুলি করার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই অবস্থান ও আন্দোলন চলমান থাকবে। যারা আগুন লাগাচ্ছে তারাই বরং আন্দোলন-বিরোধী অবস্থান নিচ্ছে।
এনসিপির আহ্বায়ক সব নাগরিককে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এবং সাংবাদিকসহ সকল মিডিয়া কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার ও দায়িত্বশীলদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের যেকোনো সমালোচনা গণতান্ত্রিক উপায়ে বলব এবং শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ প্রদর্শন করব। সকল রাজনৈতিক দলকে দায়িত্বশীল জায়গা থেকে দিকনির্দেশনা দিতে হবে এবং মিডিয়া প্রতিষ্ঠানে হামলার নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের চিহ্নিত ও গ্রেফতার করতে হবে, কারণ তারা আন্দোলনের মাঝে ঢুকে বিভাজন তৈরির চেষ্টা করছে।’
সময়ের আলো/জেডআই