
মিয়ামিতে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। এ বৈঠকে আলোচনার বিষয় ছিল ইউক্রেন যুদ্ধ।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) রাশিয়ার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসে যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার বৈঠককে “গঠনমূলক” বলেছেন এবং তিনি জানান, আলোচনা রোববারও চলবে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধে মস্কোর ওপর চাপ বাড়ানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বৈঠকে রাশিয়ার প্রতিনিধি হিসেবে ছিলেন কিরিল দিমিত্রিয়েভ এবং মার্কিন প্রতিনিধি হিসেবে স্টিভ উইটকফ ও তার জামাতা জ্যারেড কুশনার।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে, তবে এখনও সমাধানের পথে বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।
তিনি জানান, আমরা যে ভূমিকা পালন করার চেষ্টা করছি, তা হলো দুই পক্ষের মধ্যে এমন কোন বিষয় আছে কি না যা তারা একমত হতে পারে তা খুঁজে বের করা। এ কাজে আমরা অনেক সময় ও শক্তি বিনিয়োগ করেছি এবং এখনও তা চালিয়ে যাচ্ছি। এটি সম্ভব নাও হতে পারে। আমি আশা করি সম্ভব হবে। আমি আশা করি বছরের শেষের আগে, অর্থাৎ এই মাসের মধ্যে এটি সম্পন্ন করা যাবে।
এই আলোচনায় ইউক্রেনীয়, রাশিয়ান ও ইউরোপীয় কর্মকর্তারা ২০ দফার শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। যদিও মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন যে তারা কিছু অগ্রগতি অর্জন করেছে, তবে অঞ্চল এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বন্দ্ব এখনো রয়ে গেছে, যা কিয়েভ মনে করছে যেকোনও চুক্তির জন্য অপরিহার্য।
ইউক্রেনে রাশিয়ার দাবিকৃত অঞ্চলগুলো ছাড়ার জন্য প্রস্তুত রাশিয়া-এমন কোনো ইঙ্গিতও প্রকাশ করেনি এখনও। রাশিয়ার বিশ্বাস, যুদ্ধ চলাকালীন এবং ইউক্রেনের ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে রাজনৈতিক ফাটল দেখা দেওয়ার কারণে তারা এই অঞ্চলগুলি নিরাপদে দখল করতে পারবে।
তবে জেলেনস্কি বলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে আলোচনায় সমর্থন করেছেন, কিন্তু রাশিয়ার ওপর আরও কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখা জরুরি। তিনি জানান, ইউক্রেন, রাশিয়া এবং মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় আলোচনার নতুন প্রস্তাব করা হয়েছে।
একই সময়ে, ইউক্রেনের কৃষ্ণসাগরের ওডেসা অঞ্চলে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এখনও পর্যন্ত কমপক্ষে ৮ জন নিহত ও ৩০ জন আহত হয়েছেন। ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একটি বেসামরিক বাসও বিধ্বস্ত হয়েছে। সাম্প্রতিক এ হামলাগুলোতে কয়েক হাজার মানুষ এখনও বিদ্যুৎ ও তাপসংযোগবিহীন অবস্থায় রয়েছেন।
ইউক্রেনে রাশিয়ার এই সামরিক অভিযানকে দেশটি “অসামরিকীকরণ” ও ন্যাটোর সম্প্রসারণ রোধের জন্য “বিশেষ সামরিক অভিযান” হিসাবে উপস্থাপন করেছে। তবে কিয়েভ ও ইউরোপীয় মিত্ররা বলছে, এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ও ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ।
/ইউএমএইচ