
বগুড়া-৬ (সদর) আসন থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা হয়েছে।
রোববার (২১ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বগুড়া জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তৌফিকুর রহমানের কাছ থেকে মনোনয়নপত্রটি উত্তোলন করেন জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির নির্বাচনী কার্যক্রম আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।
দলীয় সূত্র জানায়, ধাপে ধাপে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাংগঠনিক ও কৌশলগত প্রস্তুতি গুছিয়ে আনছে বিএনপি। ইতোমধ্যে প্রায় ২৭৭টি সংসদীয় আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম প্রাথমিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। প্রয়োজনে কয়েকটি আসনে প্রার্থী পরিবর্তনও করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যে কোনো মূল্যে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করাই তাদের লক্ষ্য।
এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ঘোষিত সম্ভাব্য প্রার্থীদের ঢাকায় ডেকে একাধিক রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছে বিএনপি। এসব বৈঠকে দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত শীর্ষ নেতারা নির্বাচনী কৌশল, মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি ও ভোটার সংযোগ বাড়ানোর বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন। বিশেষ করে জনসম্পৃক্ত আট দফা কর্মসূচিকে সামনে রেখে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সবশেষ শনিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের প্রায় ৯০ জন সম্ভাব্য এমপি প্রার্থীর সঙ্গে দিনব্যাপী রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর আগেও দুই দিন ধরে বিভিন্ন বিভাগের প্রার্থীদের নিয়ে অনুরূপ সভা করা হয়। বিএনপি নেতারা বলছেন, এসব বৈঠক মূলত একটি ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম, যার মাধ্যমে নির্বাচনের আগে প্রার্থীদের সাংগঠনিক প্রস্তুতি ও কৌশলগত দিকগুলো একীভূত করা হচ্ছে।
জানা গেছে, নির্বাচনের আগেই প্রাথমিক মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীদের মাঠপর্যায়ের কাজ জোরদার করতে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। দলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের দেশে ফেরার আগেই নির্বাচনসংক্রান্ত প্রাথমিক কার্যক্রম শেষ করতে চায় বিএনপি।
এদিকে, রোববার তৃতীয় দিনের মতো সম্ভাব্য প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তারেক রহমান। বেলা ১১টার দিকে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে শুরু হওয়া এই সভায় সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগসহ মোট প্রায় ৯০ জন প্রার্থী অংশ নেন। বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমদ নির্বাচনী প্রস্তুতি ও আচরণবিধি বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেন।
সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহাদী আমিন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার, মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেলসহ আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা। নির্বাচন কমিশনের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. মো. জকরিয়া মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ, পূরণ ও জমাদানসহ নির্বাচন আচরণবিধি তদারকির দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে। বৈঠকের শেষ পর্বে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সব মিলিয়ে, মনোনয়ন সংগ্রহ থেকে শুরু করে প্রার্থী ও মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি-সব দিক সামলে আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পূর্ণমাত্রায় নির্বাচনী মোডে চলে গেছে বিএনপি।
/ইউএমএইচ