
বিএনপি বা জামায়াতের জোটের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির রাজনীতি জন-আকাঙ্ক্ষার পক্ষের রাজনীতি নয় বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। দলটি মনে করে, বাংলাদেশের মানুষ এই দুই বড় দলের বাইরে বাংলাদেশ পক্ষের কোনো জোটকে তাদের মূল্যবান ভোট দেয়ার জন্যে খুঁজছে।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) তোপখানা রোডের দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রাস্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ুম এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আওয়ামী জুলুমের বিপরীতে বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন যখন গণমন্ত্র মঞ্চ তৈরি করে, তখন সেই মঞ্চ যেন তার নিজস্ব রাজনীতি নিয়েই এগোয়, এই বিষয়ে মঞ্চের ভেতরে ও বাইরে নিরন্তর কাজ করে আসছিল। কিন্তু যখন পরিষ্কার হয়ে ওঠে যে মঞ্চের শরিকদের অনেকেই বড় দলের রাজনীতিকে সমর্থনের পথে হাঁটছে, তখন তারা তাদের সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলেই ধরে নেয় এবং মঞ্চ থেকে বেরিয়ে আসে।
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন মনে করে, ঐক্য কমিশনে বিএনপি তাদের ‘নোট অব ডিসেন্ট’-এর অতিরিক্ত ব্যবহার করে সংস্কার প্রক্রিয়াকে ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। একই সময়ে জামায়াতে ইসলামী সংস্কার প্রক্রিয়াকে নিজেদের রাজনৈতিক ফায়দার জন্য ব্যবহার করে নিজেদেরকে বাংলাদেশের স্বার্থের পক্ষের শক্তি হিসেবে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।
এই অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন সচেষ্ট ছিল এই দুই প্রান্তের বাইরে একটি বাংলাদেশপন্থী রাজনৈতিক জোট গড়ে তোলার জন্য। বাংলাদেশে অসংখ্য শান্তিকামী নাগরিক রয়েছেন, যারা এই দুই মেরুর বাইরে একটি পছন্দের রাজনীতির পক্ষে ভোট দিতে আগ্রহী। সেই লক্ষ্যেই গণতান্ত্রিক সংস্কার জোটের অভ্যুদয় ঘটে। জোটের নামে ‘গণতান্ত্রিক’ ও ‘সংস্কার’ শব্দ দুটি যুক্ত করে স্পষ্ট করা হয় যে এই জোট অগণতান্ত্রিক জামায়াতে ইসলামী এবং সংস্কারবিরোধী বিএনপির বাইরের একটি পক্ষ।
হাসনাত কাইয়ুম বলেন, পরিতাপের বিষয় হলো-গণতান্ত্রিক সংস্কার জোটের দুই শরিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি জোটের সমঝোতা ভেঙে বিএনপি ও জামায়াত জোটের সঙ্গে নির্বাচনী আসন ভাগাভাগির আলোচনা করছেন বলে সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
এ সংবাদের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন মনে করে, এই জোট যে বিএনপি বা জামায়াতের কোনো দিকেই ঝুঁকবে না, সে বিষয়টি সবার কাছে স্পষ্ট করা জরুরি। জোটের সমঝোতা ভেঙে আসন ভাগাভাগির এই আলোচনা কার্যত জোটকে অকার্যকর করে দিয়েছে।
আজ রাজধানীর তোপখানা রোডে অবস্থিত দলের প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ুম।
তিনি আরও বলেন, জোটের শরিক হিসেবে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার আগে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো-এই ন্যূনতম রাজনৈতিক শিষ্টাচার পালনে জোটের বাকি দুই দল ব্যর্থ হয়েছে।
তবুও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন আশা করে, এনসিপি ও এবি পার্টি আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নির্বাচনী সমঝোতা ও রাজনৈতিক জোট-সংক্রান্ত অবস্থান স্পষ্ট করবে। সেই প্রেক্ষিতে গণতান্ত্রিক সংস্কার জোটের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
হাসনাত কাইয়ুম আরও বলেন, তিনি দেশের মানুষকে জানাতে চান যে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন বিএনপি বা জামায়াত জোটের সঙ্গে নির্বাচনী আসন সমঝোতা কিংবা জোট গঠনের কোনো ধরনের আলোচনায় যুক্ত নয়, কখনো ছিলও না।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভূঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ সোহেল, ন্যায়পাল রায়হান কবির, স্থানীয় সরকার সম্পাদক সাহাবুদ্দিন কবিরাজ লিটন, ভূমিহীন, মৎস্যজীবী ও অবাঙালি বিষয়ক সম্পাদক শেখ নাসিরউদ্দিন, দপ্তর সম্পাদক ছামিউল আলম রাসু, মিডিয়া সম্পাদক এহসান আহমেদ, প্রচার সম্পাদক সামসুদ্দিন মোহাম্মদ রাকিব, নারী বিষয়ক সহ-সম্পাদক মনোয়ারা রহমান, সহ-সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হক সুমন, নির্বাহী কমিটির কার্যকরী সদস্য আবুল হোসেন অলি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কমিটির সদস্য সচিব কায়সার আহমেদ, দপ্তর সম্পাদক সারোয়ার আলম, সদস্য মোহাম্মদ মহসিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
/ইউএমএইচ