মানুষের মৃত্যুর পর জীবিতদের কর্তব্য হলো, তাকে গোসল করিয়ে কাফন পরিয়ে জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা করা। জানাজা মসজিদের বাইরে যেকোনো মাঠে-ময়দানে বা জানাজার জন্য নির্ধারিত স্থানে আদায় করা উত্তম। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সময়ও জানাজা মসজিদের বাইরে পড়া হতো। মসজিদে নববির পাশে একটি খালি জায়গা ছিল, রাসুলুল্লাহ (সা.) সেখানে জানাজ পড়তেন। (মুয়াত্তা মুহাম্মাদ, পৃষ্ঠা : ২৪৮)
‘জানাজা’ শব্দের অর্থ মরদেহ। জানাজার নামাজ আদায় করা ফরজে কেফায়া। ফরজে কেফায়া দুয়েকজন আদায় করলে মহল্লার সবার পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যায়। আর কেউ আদায় না করলে সবাই গুনাহগার হয়।
জানাজার নামাজের নিয়ত
কোনো কাজের দৃঢ় ইচ্ছা করাই হলো নিয়ত। এই ইচ্ছা সব আমলের জন্য জরুরি। নামাজের জন্যও জরুরি। কেউ যখন নামাজে দাঁড়াবে, তার অন্তরে নিয়ত থাকতে হবে, তার জানা থাকতে হবে যে সে নামাজ শুরু করছে, কোন নামাজ শুরু করছে, কত রাকাত নামাজ সে পড়বে ইত্যাদি। অন্তরের এই ইচ্ছা ও জানা থাকার নামই নিয়ত। তবুও এ এভাবে নিয়ত করা যেতে পারে, ‘আমি জানাজার ফরজে কেফায়া নামাজ চার তাকবিরসহ এই ইমামের পেছনে কিবলামুখী হয়ে আদায়ের নিয়ত করছি।’ এভাবে নিয়ত করা অবশ্য জরুরি নয়। মনে মনে নিয়ত থাকলেই যথেষ্ট।
জানাজা নামাজের ফরজ
জানাজার নামাজের ফরজ দুটি। ১. চারটি তারবির বলা। ২. জানাজার নামাজ দাঁড়িয়ে পড়া।
জানাজা নামাজের সুন্নত
জানাজার নামাজের সুন্নত তিনটি। ১. প্রথম তাকবিরের পর সানা পড়া। ২. দ্বিতীয় তাকবিরের পর রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর দরুদ পড়া। ৩. তৃতীয় তাকবিরের পর মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করা। চতুর্থ ও সর্বশেষ তাকবিরের পর সালাম ফেরানোর মাধ্যমে জানাজার নামাজ শেষ করতে হয়।
জানাজা নামাজের নিয়ম
প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষের জানাজার নামাজের নিয়ম একইরকম। নিয়ম ও দোয়ার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। প্রথম তাকবিরের (আল্লাহু আকবার) পর সানা পড়বেন। দ্বিতীয় তাকবিরের পর দরুদ শরিফ পড়তে হবে। তারপর তৃতীয় তাকবিরের পর দোয়া পড়বেন। এরপর চতুর্থ তাকবির দিয়ে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করতে হবে।
জানাজা নামাজের সানা
প্রথম তাকবির (আল্লাহু আকবার) বলে সানা পড়বেন। সানাটি হলো—বাংলা উচ্চারণ : ‘সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা ওয়া তাবারাকাসমুকা, ওয়া তাআলা জাদ্দুকা ওয়া জাল্লা ছানাউকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা।’
বাংলা অর্থ : হে আল্লাহ, সকল প্রশংসা আপনার। আপনি সব ধরনের ত্রুটিবিচ্যুতি থেকে পবিত্র। আপনার নাম মঙ্গল ও বরকতপূর্ণ, আপনার মহত্ত্ব অতি বিরাট, আপনার প্রশংসা অতি মহত্ত্বপূর্ণ এবং একমাত্র আপনি ছাড়া আর কোনো প্রভু নেই।
দরুদ শরিফ
দ্বিতীয় তাকবির বলে দরুদ পাঠ করবেন। এই তাকবিরে হাত ওঠাবেন না—বাংলা উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিউ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদিন কামা সাল্লাইতা আলা ইবরাহিমা ওয়া আলা আলি ইবরাহিমা ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ। আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিউ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদিন কামা বারাকতা আলা ইবরাহিমা ওয়া আলা আলি ইবরাহিমা ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ।
বাংলা অর্থ : হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ (সা.) ও তার পরিবারবর্গের ওপর শান্তি বর্ষণ করো, যেভাবে ইবরাহিম (সা.) ও তার পরিবারবর্গের ওপর শান্তি বর্ষণ করেছিলে। নিশ্চয়ই তুমি অতি প্রশংসিত মহিমান্বিত। হে আল্লাহ, মুহাম্মাদ (সা.) ও তার পরিবারবর্গের ওপর বরকত দান করো, যেভাবে ইবরাহিম (সা.) ও তার পরিবারবর্গের ওপর বরকত দান করেছিলে। নিশ্চয়ই তুমি অতি প্রশংসিত মহিমান্বিত।’ (সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ১২৯১)
জানাজা নামাজের দোয়া
তৃতীয় তাকবির বলে মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করবেন। তখনো হাত ওঠাবেন না। দোয়াটি হলো—বাংলা উচ্চারণ : আল্লাহুম্মাগ ফিরলি হাইয়িনা ওয়া মাইয়িতিনা ওয়া শাহিদিনা ওয়া গায়িবিনা ওয়া সাগিরিনা ওয়া কাবিরিনা ওয়া জাকারিনা ওয়া উনছানা। আল্লাহুম্মা মান আহয়াইতাহু মিন্না ফাআহয়িহি আলাল ইসলামি ওয়া মান তাওয়াফ ফাইতাহু মিন্না ফাতাওয়াত্তফাহু আলাল ইমান।
বাংলা অর্থ : হে আল্লাহ, আমাদের জীবিত ও মৃত, উপস্থিত ও অনুপস্থিত, ছোট ও বড় এবং পুরুষ ও নারী সবাইকে ক্ষমা করে দিন। হে আল্লাহ! আপনি আমাদের মধ্য থেকে যাদের জীবিত রেখেছেন ইসলামের ওপর জীবিত রাখুন আর যাদের মৃত্যুদান করেছেন তাদের ইমানের সঙ্গেই মৃত্যুদান করুন।
তারপর চতুর্থ তাকবির বলবেন। তখনো হাত ওঠাবেন না। এরপর ডান ও বাঁ দিকে সালাম ফেরাবেন।
আরআর