প্রত্যেক জীবকেই মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করতে হবে। আর কবর পরকালীন জীবনের প্রথম ধাপ। কবর দেওয়ার পর সেখানে খেজুর গাছের ডাল বা অন্য কোনো গাছের ডাল গেঁড়ে দেওয়ার রেওয়াজ আমাদের সমাজে বেশ পরিচিত। তবে প্রশ্ন হলো, এই কাজটি আদৌ শরিয়তসম্মত কি না, নাকি সময়ের সঙ্গে যুক্ত হওয়া একটি অতিরঞ্জিত প্রথা?
হাদিসে এসেছে, ‘আখেরাতের মানজিলসমূহের মধ্যে কবর হলো প্রথম মানজিল। এখান থেকে কেউ মুক্তি পেয়ে গেলে তার জন্য পরবর্তী মানজিলগুলোতে মুক্তি পাওয়া খুব সহজ হয়ে যাবে। আর এখান থেকে মুক্তি না পেলে তার জন্য পরবর্তী মানজিলগুলো আরো বেশি কঠিন হবে। রসুলুল্লাহ (স.) বলেন, আমি কবরের দৃশ্যের চাইতে অধিক ভয়ংকর দৃশ্য দেখিনি। (তিরমিজি : ২৩০৮)
ফুকাহায়ে কেরাম বলেন, কবরে খেজুর গাছের ডাল পুঁতে দেয়া নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আমল দ্বারা প্রমাণিত। বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, একদা রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুটি কবরে আজাব হচ্ছে জানতে পেরে একটি খেজুর গাছের ডালকে দুই টুকরা করে কবর দুটিতে গেড়ে দেন। (বুখারি : ১/১৮২)
আরেক বর্ণনায় আছে, বুরাইদা আসলামী (রা.) মৃত্যুর পূর্বে অসিয়ত করে যান, যেন তার কবরে খেজুর গাছের দুটি ডাল গেড়ে দেয়া হয়। (বুখারি : ১/১৮১)
সহিহ হাদিসে বলা হয়, রাসুল (সা.) একবার সাহাবীদের নিয়ে দুটি কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যাওয়ার সময় তিনি দেখলেন যে, সে কবরের মধ্যে আজাব হচ্ছে। এটা রাসুলের (সা.) মোজেজা। নবী (সা.) তখন খেজুরের একটি তাজা ডাল নিয়ে দুই কবরের উপর রেখে দিলেন। বললেন, যতক্ষণ পর্যন্ত খেজুরের ডালগুলো সতেজ থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এগুলো জিকির করবে এবং এর কারণে আজাব কমবে।
এই দুজনের একজন পরনিন্দা করতেন এবং অন্যজন প্রস্রাব থেকে নিজেকে হেফাজত করতেন না অর্থাৎ প্রস্রাবের সময় সতর্কতা অবলম্বন করতেন না, অনেকটা উলঙ্গ অবস্থায় প্রস্রাব করতেন। এই দুই ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছিল। সেই জন্য আল্লাহর রাসুল কবরের উপর খেজুরের ডাল লাগিয়ে দিয়েছেন।
এই হাদিসকে অনুসরণ করে এখনো যদি কেউ খেজুরের ডাল কবরে পুঁতে দেন তাহলে সেটি বেদাত হবে না, কোনো অসুবিধা হবে না। কিন্তু ফলাফল পাওয়া যাবে কি না সেটি আল্লাহই ভালো জানেন।
সময়ের আলো/জেডআই