মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচার জন্য লুকানোর স্থান নেই। পালিয়ে বেড়ানোর জায়গা নেই। কেউ চাইলেও মৃত্যুকে পাশ কাটাতে পারবে না। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা যেখানেই থাকো (একদিন না একদিন) মৃত্যু তোমাদের নাগাল পাবেই, চাই তোমরা সুরক্ষিত কোনো দুর্গে থাকো না কেন।’ (সুরা নিসা, আয়াত : ৭৮)
পরিবার-পরিজন বা আত্মীয়ের মৃত্যুতে ইসলামেও শোক প্রকাশের অনুমোদন রয়েছে। এমনকি মৃত্যু শোকে নিঃশব্দ কান্না করা যাবে; অশ্রু বিসর্জন দেওয়া যাবে। তবে উচ্চ আওয়াজে বিলাপ করা যাবে না। সবচেয়ে উত্তম হলো শোক প্রকাশ করে মৃতব্যক্তির জন্য দোয়া করা। নবিজি (সা.) যেভাবে মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করতেন। তিনি ছিলেন পৃথিবীর জন্য রহমত। তিনি সবার জন্য রহমত কামনা করতেন। মৃত ব্যক্তিদের জন্য ক্ষমার দোয়া করতেন। একটি দোয়া হলো এ রকম যে—
اللهُـمِّ اغْفِـرْ لَهُ وَارْحَمْـه، وَعافِهِ وَاعْفُ عَنْـه ، وَأَكْـرِمْ نُزُلَـه ، وَوَسِّـعْ مُدْخَـلَه ، وَاغْسِلْـهُ بِالْمـاءِ وَالثَّـلْجِ وَالْبَـرَدْ ، وَنَقِّـهِ مِنَ الْخطـايا كَما نَـقّيْتَ الـثَّوْبُ الأَبْيَـضُ مِنَ الدَّنَـسْ ، وَأَبْـدِلْهُ داراً خَـيْراً مِنْ دارِه ، وَأَهْلاً خَـيْراً مِنْ أَهْلِـه ، وَزَوْجَـاً خَـيْراً مِنْ زَوْجِه، وَأَدْخِـلْهُ الْجَـنَّة ، وَأَعِـذْهُ مِنْ عَذابِ القَـبْر وَعَذابِ النّـار
বাংলা উচ্চারণ : আল্লাহহুম্মাগ ফিরলাহু ওয়ারহামহু, ওয়া আফিহি ওয়া ফু আনহু; ওয়া আকরিম নুজুলাহু, ওয়া ওয়াসসি মাদখালাহু; ওয়াগসিলহু বিল মায়ি ওয়াস সালজি ওয়াল বারাদি, ওয়া নাক্কিহি মিনাল খাতা-ইয়া কামা ইউননাককাস সাওবুল আব ইয়াজু মিনাদদানাসি; ওয়াবদিলহু দা-রান খায়রান মিন দারিহি, ওয়া আহলান খাইরান মিন আহলিহি; ওয়া জাওজান খাইরান মিন জাওজিহি। ওয়া আদখিলহুল জান্নাতা, ওয়া আইজহু মিন আজাবিল কাবরি ওয়ামিন আজাবিন নার।
বাংলা অর্থ : হে আল্লাহ, তাকে ক্ষমা করুন এবং তাকে দয়া করুন। শান্তিতে রাখুন এবং তার থাকার স্থানটিকে মর্যাদাশীল করুন। তার কবর প্রশস্ত করে দিন। বরফ ও তুষারের শুভ্রতা দিয়ে, তাকে গুনাহ থেকে এমনভাবে পরিচ্ছন্ন করে দিন—যেমন ময়লা থেকে সাদা কাপড় পরিষ্কার হয়। তাকে দুনিয়ার বাসস্থানের চেয়ে উত্তম বাসস্থান, পরিবার ও সঙ্গী দান করুন, হে মাবুদ, তাকে জান্নাতে প্রবেশ করুন, তাকে কবর আর দোজখের আজাব থেকে রক্ষা করুন। (মুসলিম, হাদিস : ২/৬৩৪)
আওফ বিন ইবন মালিক (রা.) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে মৃত ব্যক্তির জন্য এমন দোয়া করতে দেখে আকাঙ্ক্ষা করেছিলাম যে, যদি সেই মৃত ব্যক্তিটি আমি হতাম।’
মৃতের জন্য দোয়া-ক্ষমা প্রার্থনা করা
আপনজন, নিকটাত্মীয় ও পরিচিত যে কারও মৃত্যু হতে পারে। এদের মৃত্যুতে মানুষের মন খারাপ হয়। অন্তরে ব্যথা লাগে। তাদের জন্য কিছু করতে অনেকের মন কাঁদে। তাদের জন্য ক্ষমা চাইতে ও দোয়া করতে প্রবল ইচ্ছা জাগে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন মানুষ মারা যায় তার সব আমল বন্ধ হয়ে যায়। শুধু তিনটি আমলের ফায়দা ভোগ করে—এক. সদকায়ে জারিয়া, দুই. এমন জ্ঞান, যার দ্বারা মানুষ উপকৃত হয়, তিন ওই সুসন্তান, যে তার জন্য দোয়া করে। ’ (মুসলিম, হাদিস : ১৬৩১)
আরআর