শীতে কাঁপছে রাজধানীসহ পুরো দেশ। সেইসঙ্গে ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে জনজীবন বিপর্যস্ত। থমকে গেছে চঞ্চল জনপদ। দিনের বেলায় সূর্যের আলো থাকলেও মিলছে না সেই কাঙ্খিত উষ্ণতা। আবার বিভিন্ন জেলাতে গত কয়েকদিন ধরে ভরদুপুরেও সূর্যের দেখা মিলছে না। সকাল ও সন্ধ্যায় মানুষ ঘরের বাইরে বের হতে পারছে না। আর জরুরি প্রয়োজনে যারা বাইরে বের হচ্ছেন, ঠান্ডায় কাবু হয়ে ঘরে ফিরছেন তারা। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষজন। দরিদ্র ও দিনমজুররা কাজ না পেয়ে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। শীতের তীব্রতায় রোগীর সংখ্যা বাড়ছে হাসপাতালগুলোতে। মানুষজন রাস্তার মোড়, চায়ের দোকান ও বাজার এলাকায় খড়কুটো, কাঠ ও পুরনো টায়ার জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, বর্তমানে দেশের ১৭টি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সংস্থাটির তথ্যমতে, পৌষের মাঝামাঝি সময়ে শীতের তীব্র প্রবণতা আরও কয়েকদিন থাকবে। তবে দিন ও রাতের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে, তাতে কিছু এলাকায় শৈত্যপ্রবাহ প্রশমিত গতে পরে।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। আর দিনের তাপমাত্রা ১-২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে। অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে।
আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থা সম্পর্কে বলা হয়েছে, উপমহাদেশীয় উচ্চবলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। এর বর্ধিতাংশ উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।
আবহাওয়ার নিয়মিত পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে- মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, সিলেট, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, বরিশাল ও ভোলা জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন রাজধানী ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের অনেক জায়গায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং কোথাও কোথাও এটি দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
আগামীকাল শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সেই সঙ্গে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশের অনেক জায়গায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং তা দুপুর পর্যন্ত কোথাও কোথাও অব্যাহত থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। এ ছাড়া, সারাদেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
সময়ের আলো/এনএ