রহস্যজনক ৬ ব্যক্তির সন্ধান চলছে

সালাহ উদ্দিন চৌধুরী

জাতীয়

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার পলাতক আসামি গ্রেফতার সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে দীর্ঘ

2026-07-20T05:04:52+00:00
2026-07-20T11:44:24+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬,
৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড
রহস্যজনক ৬ ব্যক্তির সন্ধান চলছে
সালাহ উদ্দিন চৌধুরী
প্রকাশ: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ৫:০৪ এএম  আপডেট: ২০.০৭.২০২৬ ১১:৪৪ এএম
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ছবি : সংগৃহীত
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার পলাতক আসামি গ্রেফতার সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে কারা আশ্রয় দিয়েছিল সেই তথ্য বের করার চেষ্টা করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

অন্যদিকে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনের বিষয়ে তদন্ত করতে গিয়ে বের হয়ে এসেছে রহস্যজনক আরও ৬ ব্যক্তির উপস্থিতি। ধারণা করা হচ্ছে দেশকে অস্থিতিশীল করতে এই ৬ ব্যক্তি সক্রিয় ছিল। যাদের সঙ্গে গ্রেফতার সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর (অব.) মোজাফফরের যোগসূত্র থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

জানা যায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর মোবাইল ফোনের ফরেনসিক বিশ্লেষণ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। এতে কিছু সন্দেহজনক মোবাইল ফোন  নম্বর পায় তারা। নম্বরগুলো শনাক্তের জন্য পুলিশের কাছে পাঠানো হয়। এই সূত্র ধরে পলাতক সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেনকে (৭৭) শনাক্ত ও গ্রেফতার করে পুলিশ।

একই সঙ্গে আরও ৬টি সন্দেহজনক মোবাইল ফোনের সন্ধান পাওয়া যায়। তদন্ত সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিবিদরা ধারণা করছেন, গ্রেফতার এই দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে অশনাক্ত ও সন্দেহজনক ৬ মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর ঘনিষ্ঠ যোগসাজশ আছে। তাদের শনাক্ত করতে পারলে অনেক রহস্যের দ্বার উন্মোচিত হবে।

এক-এগারোর সময়ের আলোচিত লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিনকে গত ২৩ মার্চ রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএসের বাসা থেকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। 

অন্যদিকে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ৪৫ বছর ধরে পলাতক মেজর (অব.) মোজাফফরকে গত বুধবার রাতে রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরদিন গত বৃহস্পতিবার তাকে ঢাকা সেনানিবাসের মিলিটারি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিনকে মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় গত ৭ মে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে এই মামলায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদেরও অনুমতি দেওয়া হয়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা গতকাল রোববার সময়ের আলোকে বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সে সময় একজন জনপ্রিয় রাষ্ট্রপতি ছিলেন। তাকে কি উদ্দেশ্যে খুন করা হলো, এর সঙ্গে কারা জড়িত ছিল- এই প্রশ্নের উত্তরগুলো জানা প্রয়োজন। সাধারণ মানুষেরও এটি চাওয়া। মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে কারা শেল্টার দিয়েছিল সেই উত্তর পাওয়া গেলে এসব অনেক প্রশ্নের উত্তর মিলবে।

তানভীর হাসান জোহা বলেন, মামলা তদন্তের অংশ হিসেবে মাসুদ উদ্দিনের মোবাইল ফোনের ফরেনসিক টেস্ট করে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। মাসুদ উদ্দিনের মোবাইল ফোন থেকে যাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে তার সিডিআর (কল ডিটেইল রেকর্ড) নেওয়া হয়। তাদের সবার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। তিনি আরও বলেন, মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে তিনি চিনতেন না। তার নামটি ‘জনডো’ হিসেবে সেভ করা ছিল। সন্দেহজনক হওয়ায় তা পুলিশকে দেওয়া হয়। পুলিশই পরবর্তী সময়ে মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে গ্রেফতার করে। 

তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিনকে এবং মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনের মোবাইল ফোনের ফরেনসিক বিশ্লেষণে আরও ৬ ব্যক্তির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে তারা দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত। এই ৬ ব্যক্তি বা ওই ৬টি সিম ব্যহারকারীদের শনাক্তে কাজ চলছে। তবে ওইসব সিম মিথ্যা তথ্য দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছিল।

অন্যদিকে মোজাফফরকে গ্রেফতারের পর জিয়া হত্যাকাণ্ডে তিনিসহ আর কারা কারা জড়িত ছিল এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কি হবে তা জানতে জনমনে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল।

তবে অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, মোজাফফর যেহেতু হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত, তাই তার কাছে থেকে সব তথ্য বের করতে হবে। হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড কারা, দেশি-বিদেশি কোন কোন মহল এর সঙ্গে জড়িত- সবই তিনি জানেন। ফলে বিস্তারিত ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য বের করার আগে তার শাস্তি নিশ্চিত করা ঠিক হবে না।

অপরাধ বিশ্লেষক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক এ প্রসঙ্গে বলেন, মোজাফফরের গ্রেফতার একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। তবে শুধু এই ব্যক্তির শাস্তি নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত ঘটনা এবং মূল গডফাদারদের মুখোশ উন্মোচন করা আজ সময়ের দাবি। তিনি বলেন, তার কাছে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আছে। এসব তথ্য জানতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সেনাবাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সব মহলের সমন্বয়ে একটি নিরপেক্ষ ও জোরালো তদন্ত প্রক্রিয়া চালু করা দরকার।

ড. তৌহিদুল বলেন, তদন্তের মাধ্যমে মূলত দুটি বিষয় সামনে আসা জরুরি। প্রথমত এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে আর কারা জড়িত ছিল এবং বর্তমানে তারা কোথায় অবস্থান করছে। দ্বিতীয়ত এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল পরিকল্পনাকারী কারা ছিল, দেশি-বিদেশি কী ধরনের ষড়যন্ত্র এর সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে কারা রাজনৈতিক বা সামাজিকভাবে সুবিধাভোগী হয়েছে। তাদের প্রকৃত পরিচয় দেশবাসীর সামনে তুলে ধরা।

উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোররাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নৃশংসভাবে হত্যা করেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান আগের দিন চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন দলের স্থানীয় বিরোধ মেটাতে। জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন ঐতিহাসিক বর্ণনা, বয়ান বা বইয়ের তথ্য অনুযায়ী ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে যাওয়া সশস্ত্র সেনা কর্মকর্তাদের একজন ছিলেন মোজাফফর।

জিয়াকে হত্যার মুহূর্তে তার কাছেই ছিলেন তিনি। জিয়াউর রহমান হত্যার পর মোজাফফর পালিয়ে যান। তাকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য তখন পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল।

সময়ের আলো/এসএকে




  বিষয়:   রহস্যজনক  ৬ ব্যক্তির সন্ধান চলছে  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: