রাজধানীর বাজারে নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে অস্বস্তি কাটছে না ক্রেতাদের। বিশেষ করে ডিমের দাম বেড়ে প্রতি ডজন ১৬৫ টাকা এবং চারটি ৫৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারেও চড়া দাম অব্যাহত। সবজির বেশির ভাগের দামও কেজিতে ৮০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে। তবে মুরগি ও গরুর মাংসের দামে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর রায়েরবাজার ও মোহাম্মদপুর কৃষি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাজারে বেগুন, করলা, বরবটি, ঢ্যাঁড়স, পটল ও কাঁকরোলসহ বেশির ভাগ সবজি ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। শসা পাওয়া যাচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে। তবে দেশি শসার দাম ৮০ থেকে ১০০ টাকা। আগাম শিম বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে। সবজির মধ্যে পেঁপে তুলনামূলক কম, ৪০ টাকা কেজি।
এদিকে আবারও বেড়েছে কাঁচা মরিচের দাম। গত সপ্তাহে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও শুক্রবার তা বেড়ে ১৬০ টাকা হয়েছে। লম্বা বেগুন ১০০, গোল বেগুন ১২০ এবং টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বরবটি, ঝিঙে ও করলার দাম ৮০ টাকা কেজি। লাউ প্রতি পিস ৫০ থেকে ৭০ টাকা এবং কচুরমুখি ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
শাকের দাম তুলনামূলক কম। লাল শাক ও কলমি শাক ১০ টাকা আঁটি, ডাঁটা শাক ৩০ থেকে ৪০, পুঁইশাক ৩০ থেকে ৫০, লাউ শাক ৪০ থেকে ৬০ এবং কচু শাক ২৫ থেকে ৩০ টাকা আঁটি বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে সবজির দাম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। আবু দাউদ নামে এক ক্রেতা বলেন, প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। ৮০ টাকার নিচে ভালো সবজি পাওয়া কঠিন। টমেটো, বেগুন ও করলা কিনতে গেলে কেজিতে ১০০ টাকার বেশি গুনতে হচ্ছে। সীমিত আয়ের মানুষের জন্য এ দাম সামলানো কঠিন।
অন্যদিকে ডিমের বাজারেও স্বস্তি নেই। প্রতি ডজন ডিম ১৬৫ টাকা এবং চারটি ৫৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে একটি ডিমের দাম পড়ছে প্রায় ১৪ টাকা। ডিম বিক্রেতা মাসুম বলেন, ‘ফার্মের মুরগির ডিম এখন হালি ৫৫ টাকা। দাম বাড়ছে, কমার কোনো লক্ষণ নেই।’
মুরগির বাজারে অবশ্য বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের দামও আগের মতো, কেজি ৮০০ টাকা।
মাছের বাজারেও চড়া দাম অব্যাহত রয়েছে। তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০, পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০, রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৪২০ এবং চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০, বড় রুই ৪৫০ থেকে ৫০০, ট্যাংরা প্রায় ৭০০, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০, বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ এবং দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চাষের কই প্রায় ৩০০, পোয়া ২৬০ এবং শোল ৭০০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। আকারভেদে চাষের শিং মাছের দাম ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা।
রায়েরবাজারের মাছ বিক্রেতা মফিজুল ইসলাম বলেন, মাঝারি আকারের রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশি ও চাহিদাসম্পন্ন মাছের দাম আরও বেশি। নদীর বেলে মাছ কিনতে গেলে কেজিতে ১ হাজার টাকার বেশি গুনতে হচ্ছে।
তিনি জানান, মাছের দাম আকার, মান, জীবিত না মৃত এবং বাজারে সরবরাহের ওপর নির্ভর করে। একই মাছের ক্ষেত্রেও বাজারভেদে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত পার্থক্য থাকতে পারে।
এর আগে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে সবজির দাম কিছুটা কমার খবর পাওয়া গেলেও শুক্রবার কয়েকটি বাজারে উল্টো দাম বাড়ার চিত্র দেখা গেছে। একই সঙ্গে ডিমের বাড়তি দাম এবং মাছের চড়া বাজার সাধারণ ক্রেতাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।
সব মিলিয়ে মুরগি ও গরুর মাংসের দাম মোটামুটি স্থির থাকলেও ডিম, মাছ ও বেশির ভাগ সবজির বাড়তি দামে স্বস্তি নেই নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের।
সময়ের আলো/কেএইচ