আগামী মাসেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া কথা রয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন। আর নির্বাচন এলেই প্রার্থীরা জমা দেন হলফনামা। আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোনয়ন দাখিল শেষে প্রার্থীদের হলফনামা যাচাই বাছাই চলছে।
হলফনামা কী
একজন প্রার্থীর দেওয়া একটি আইনি ঘোষণাপত্র হলো হলফনামা। নির্বাচনের আগে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে এটি জমা দিতে হয়। হলফনামা, মূলত একটি লিখিত দলিল যেখানে প্রার্থী তার নিজের এবং তার পরিবারের সম্পদ, দায়-দেনা এবং ব্যক্তিগত যোগ্যতার তথ্য শপথপূর্বক ঘোষণা করেন। সহজ কথায় বললে, হলফনামা ভোটারের কাছে প্রার্থীর একটি ‘আমলনামা’। যা দেখে ভোটাররা সিদ্ধান্ত নিতে পারেন ওই প্রার্থী ভোট পাওয়ার যোগ্য কি না।
হলফনামার মাধ্যমে প্রার্থীর জীবনযাপন ও আয়ের উৎস সম্পর্কে জনগণ জানতে পারে। নির্বাচনের আগে দেওয়া তথ্যের সাথে নির্বাচনের পরের সম্পদের ব্যবধান পরীক্ষা করে দুর্নীতির ধারণা পাওয়া যায়। হলফনামায় ভুল বা মিথ্যা তথ্য দিলে প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হতে পারে, এমনকি নির্বাচিত হওয়ার পরও সদস্যপদ হারাতে হতে পারে।
নির্বাচনী হলফনামায় সাধারণত যে তথ্যগুলো থাকে
ব্যক্তিগত তথ্য : প্রার্থীর নাম, ঠিকানা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা।
ফৌজদারি রেকর্ড : প্রার্থীর বিরুদ্ধে বর্তমানে কোনো মামলা আছে কি না, বা অতীতে কোনো মামলায় সাজা হয়েছে কি না।
আয়ের উৎস : প্রার্থীর আয়ের প্রধান মাধ্যমগুলো কী কী (যেমন: ব্যবসা, কৃষি বা চাকরি)।
সম্পদ বিবরণী : স্থাবর (জমি, বাড়ি) এবং অস্থাবর (নগদ টাকা, ব্যাংক জমা, স্বর্ণ, শেয়ার) সম্পদের হিসাব। এখানে সাধারণত স্বামী/স্ত্রী এবং নির্ভরশীল সন্তানদের সম্পদের তথ্যও দিতে হয়।
ঋণ ও দায় : ব্যাংক বা অন্য কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া ঋণের পরিমাণ।
নির্বাচনী হলফনামায় সম্পদ বিবরণী হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখানে প্রার্থীকে তার নিজের, স্বামী/স্ত্রীর এবং নির্ভরশীল সন্তানদের নামে থাকা যাবতীয় সহায়-সম্পত্তির হিসাব দিতে হয়। সম্পদ বিবরণীর মাধ্যমে প্রার্থীর ঘোষিত আয়ের উৎসের সাথে তার অর্জিত সম্পদের সামঞ্জস্য আছে কি না তা যাচাই করা হয়। একজন ব্যক্তি বারবার নির্বাচিত হলে তার সম্পদের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে কি না, ভোটাররা তা তুলনা করতে পারেন। অনেক সময় প্রার্থীর নিজের নামে সম্পদ কম থাকলেও স্ত্রী বা সন্তানদের নামে বিপুল সম্পদ থাকে, যা হলফনামার মাধ্যমে সামনে আসে। স্বচ্ছতার খাতিরে এই সম্পদকে মূলত দুটি ভাগে ভাগ করে দেখানো হয়, অস্থাবর সম্পদ এবং স্থাবর সম্পদ।
অস্থাবর সম্পদ
অস্থাবর সম্পদ বলতে বোঝায় যা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তর করা যায়। অস্থাবর সম্পদে সাধারণত নিচের বিষয়গুলো উল্লেখ থাকে।
নগদ টাকা: প্রার্থীর হাতে বা ঘরে কত টাকা জমা আছে।
ব্যাংক জমা: বিভিন্ন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা রাখা টাকা।
বন্ড ও শেয়ার: পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করা টাকা বা সঞ্চয়পত্র।
স্বর্ণ ও অলঙ্কার: নিজের বা পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা স্বর্ণের পরিমাণ (ভরিতে) এবং তার তৎকালীন ক্রয়মূল্য।
যানবাহন: গাড়ি, মোটরসাইকেল বা অন্য কোনো যানবাহনের বিবরণ ও মূল্য।
ইলেকট্রনিক্স ও আসবাবপত্র: টিভি, ফ্রিজ, কম্পিউটার এবং ঘরের আসবাবপত্রের আনুমানিক আর্থিক মান।
স্থাবর সম্পদ
স্থাবর সম্পদ বলতে সেসব সম্পদকে বোঝায় যা স্থানান্তরযোগ্য নয়। স্থাবর সম্পদে সাধারণত নিচের বিষয়গুলো উল্লেখ থাকে।
কৃষি জমি: নিজের নামে থাকা চাষযোগ্য জমির পরিমাণ ও অবস্থান।
অকৃষি জমি: বাড়ি তৈরির প্লট বা বাণিজ্যিক জমি।
দালান ও অ্যাপার্টমেন্ট: আবাসিক বা বাণিজ্যিক ভবন, ফ্ল্যাট বা দোকান।
উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পদ: পৈতৃকভাবে পাওয়া কোনো জমি বা বাড়ি।
সময়ের আলো/জেডআই