দেশে বর্তমানে এলপিজির পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। কৃত্তিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রনালয় জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য কেবিনেট ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, এ সব পদক্ষেপের ফলে এলপিজির দাম দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
দেশে চলমান এলপিজি সিলিন্ডারের সংকটের মধ্যে রোববার বিকেলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে এলপিজি অনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ এবং এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক করেন জ্বালানি বিভাগের সচিব।
জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানায়, লক্ষ্য করা যাচ্ছে খুচরা পর্যায়ে এলপিজির বাজার স্বাভাবিক এর চেয়ে ঊর্ধ্বমুখী। বিষয়টি লক্ষ্য করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সংশ্লিষ্ট বিভাগের সচিব ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন। বৈঠকে পরিস্থিতি বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে এলপিজির বাজার স্বাভাবিক করার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এলপিজি অনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ এবং এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে চলমান এলপিজি সংকট বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়, সেখানে যেসব পর্যবেক্ষণ উঠে আসে সেগুলো হচ্ছে—
১. দেশে এলপিজি গ্যাসের পর্যাপ্ত মজুদ আছে। স্থানীয় খুচরা বিক্রেতারা বাজারে একটি কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে। যদিও বিশ্ব বাজারে মূল্য বৃদ্ধি এবং জাহাজ সংকট ও কিছু কিছু কার্গোর (জাহাজ) ওপর Sanction আরোপ করায় আমদানি পর্যায়েও কিছু সংকট উদ্ভূত হয়েছে।
২. প্রাপ্ত তথ্য থেকে দেখা যায়, নভেম্বর ২০২৫ মাসে এলপিজির আমদানির পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৫ হাজার মেট্রিক টন। অথচ ডিসেম্বর ২০২৫ মাসে আমদানির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার মেট্রিক টন। অর্থাৎ আমদানি বৃদ্ধি হলেও বাজারে এলপি গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ার কোনো যুক্তিসংগত কারণ নেই।
৩. বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন এ মাসে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধি করতে পারে জেনে খুচরা বিক্রেতারা এ সংকট তৈরি করেছে বলে জানিয়েছে এলপিজি অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ এবং আমদানিকারকরা।
রোববার সন্ধ্যায় এলপিজি সিলিন্ডার এর দাম ১২৫৩ থেকে ১৩০৬ টাকায় বৃদ্ধি করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন।
৪. এর মধ্যে গ্রিন ফুয়েল বিবেচনায় এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে উত্থাপিত কিছু দাবির বিষয়ে সংস্লিষ্ট (এলসি সহজীকরণ, আরোপিত ভ্যাট হ্রাস করা ইত্যাদি) কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনপূর্ক দাবিসমূহ নিষ্পত্তির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে ।
এই পরিপ্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে যে, এলপিজি অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এলপিজি বাজারে সৃষ্ট কৃত্রিম সংকটের বিষয়ে বিবৃতি প্রদান করবে।
আরআর