জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে একটি মহল বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছে বলে জানিয়েছে জকসু নির্বাচন কমিশন।
মক ভোটিংয়ে নির্বাচন কমিশনের অনিচ্ছাকৃত ভুলকে কেন্দ্র করে একটি প্যানেলের সংবাদ সম্মেলনের ঘটনায় সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত মক ভোটিং ১ এ ব্যবহৃত একটি ব্যালট পেপার ভুলবশত অব্যবহৃত অন্যান্য ব্যালট পেপারের সঙ্গে একটি খামে সংরক্ষণ করা হয়। পরবর্তীতে চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি একই ভেনুতে অনুষ্ঠিত মক ভোটিং ২ চলাকালে ওই ব্যালট পেপারটি অব্যবহৃত মনে করে একজন প্রার্থীকে দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে কমিশন জানায়, বিষয়টি সম্পূর্ণই একটি অনিচ্ছাকৃত ভুল। এর সঙ্গে নির্বাচনী স্বচ্ছতা বা গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ন হওয়ার কোনো যোগসূত্র নেই। উল্লেখ্য, ব্যবহৃত ব্যালট পেপারটি ছিল তিন পৃষ্ঠাবিশিষ্ট ব্যালটের মাত্র একটি পৃষ্ঠা, যা একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে বিবেচ্য।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জকসু নির্বাচন কমিশন গঠনের পর থেকে এখন পর্যন্ত কমিশনের সব কার্যক্রম পর্যালোচনা করলে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে কমিশন সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, সততা ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।
এ ধরনের বিচ্ছিন্ন ঘটনার মাধ্যমে বহুল প্রতীক্ষিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ ও হল সংসদ নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগ নেই বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
এরআগে সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রফিক ভবনের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে জকসু নির্বাচনে ব্যবহৃত ভোট গণনা মেশিনে ডেমো ভোটের ফলাফলে অসংগতির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করে ছাত্রদল ও ছাত্রঅধিকার সমর্থিত প্যানেল ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেল।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে প্যানেলের নেতারা বলেন, একটি মিটিংয়ে ডাকা হয়েছিল, যেখানে বিভিন্ন প্যানেলের প্রতিনিধি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সামনে ডেমো ভোট গণনা দেখানো হয়। সেখানে আমরা স্পষ্ট অসংগতি লক্ষ্য করি। একটি মেশিনে এক ধরনের ফলাফল, অন্য মেশিনে ভিন্ন ফলাফল দেখা যায়।
ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা বলেন, এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা জানায় সেনসিটিভিটি কম-বেশি হওয়ার কারণে এমন হতে পারে এবং ভোট গণনায় দুই শতাংশ পর্যন্ত পার্থক্য থাকতে পারে।
প্রসঙ্গত, গত ৩০ ডিসেম্বর জকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জরুরি সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে জকসু নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুনরায় ৬ জানুয়ারি জকসু নির্বাচনের নতুন তারিখ নির্ধারণ করে কর্তৃপক্ষ।
সময়ের আলো/ এসকে/