জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আবাসিক হলগুলোতে দিন দিন ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে। গত ২০ কর্মদিবসে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৮০ জন শিক্ষার্থী ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে রক্ত পরীক্ষা করিয়েছেন, যার মধ্যে ৪৯ জনের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের প্যাথলজি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২ আগস্ট থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত এই পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ ক্যাম্পাসে ঝোপঝাড়, জলাশয় ও জমে থাকা পানি এডিস মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে। একজন শিক্ষার্থী আক্রান্ত হলে তার কক্ষসঙ্গী ও সহপাঠীদের মধ্যেও ডেঙ্গু আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। তীব্র জ্বর, মাথাব্যথা ও শরীরব্যথা নিয়ে অনেকে হলে থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন, আবার কেউ কেউ বাধ্য হয়ে বাড়িতে ফিরে গেছেন। এতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষার প্রস্তুতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি ও ময়লা-আবর্জনা নিয়মিত পরিষ্কার করা হচ্ছে না। এছাড়া মশকনিধনের নিয়মিত কার্যক্রম না থাকায় সন্ধ্যার পর মশার উপদ্রব চরম আকার ধারণ করছে।
মশা নিয়ন্ত্রণে সপ্তাহে একবার স্প্রে করার নিয়ম থাকলেও ক্যাম্পাসে সর্বশেষ স্প্রে করা হয়েছে গত জুনে। নতুন উপকরণ কেনার জন্য জুলাইয়ে বাজেট চাওয়া হয়েছে এবং বাজেট পেলে শিগগিরই স্প্রে কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন এস্টেট অফিসের ডেপুটি রেজিস্ট্রার আবদুর রহমান।
কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার জানান, কেবল উন্মুক্ত স্থানে ফগিং করে মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে এবং নিয়মিত মশা জরিপ (এন্টোমোলজিক্যাল সার্ভেইল্যান্স) পরিচালনা করতে হবে।
মেডিকেল সেন্টারের ভারপ্রাপ্ত প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মো. শামছুল আলম রোগীর চাপ বাড়ার কথা জানিয়ে দ্রুত ঝোপঝাড় ও জমে থাকা পানি পরিষ্কারের তাগিদ দিয়েছেন। উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে খুব শীঘ্রই সংশ্লিষ্টদের নিয়ে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হবে।
সচেতনতা ও সভার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে নিয়মিত মশকনিধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার না করলে এই সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন শিক্ষার্থীরা।
সময়ের আলো/জোই