বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ এবং গোপনে ব্যক্তিগত ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। তার নাম তাসমিম মাহিদ চঞ্চল (২৪)। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী এবং অমর একুশে হলের আবাসিক ছাত্র।
ধর্ষণের অভিযোগে তাসমিম মাহিদ চঞ্চলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থী।
ভুক্তভোগী তরুণী গত বছরের ১৮ অক্টোবর ধানমন্ডি মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় এজাহার দায়ের করেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রায় এক বছর আগে অভিযুক্ত তাসমিম মাহিদ চঞ্চল (২৪)-এর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অভিযুক্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং অমর একুশে হলের আবাসিক ছাত্র।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, একদিন রেস্টুরেন্টে খেতে যাওয়ার কথা বলে অভিযুক্ত তাকে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্কের জন্য বাধ্য করে। মান ও ইজ্জতের ভয়ে কিছুই বলতে পারেননি। পরে তিনি জানতে পারেন, ওই ঘটনায় অভিযুক্ত গোপনে ভিডিও ধারণ করেছে এবং তার ওপর বারবার ব্ল্যাকমেইল চালিয়েছে। প্রতিবাদ করার পর অভিযুক্ত তাকে বিবাহের আশ্বাস দেয়। সেই আশ্বাসের প্রলোভনে পরিবারের বিরোধিতা সত্ত্বেও ভুক্তভোগী তার কাছে চলে যান। কিন্তু সেখানে এসে দেখেন, তার আশ্বাস ছিল প্রতারণা-ভিত্তিক; অভিযুক্ত বিয়ে করতে রাজি ছিলেন না।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৩০ আগস্টে অভিযুক্তের ডাকে ধানমন্ডিতে গেলে ৩১ আগস্ট রাত আনুমানিক ১২টা ২০ মিনিটে ধানমন্ডি মডেল থানাধীন একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে গিয়ে আবারও বিবাহের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করা হয়। এরপর অভিযুক্ত তাকে এড়িয়ে চলতে শুরু করে এবং এক পর্যায়ে স্পষ্টভাবে জানায় যে, তাকে বিবাহ করা সম্ভব নয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করলে অভিযুক্তের পরিবারও বিয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং যোগাযোগ না রাখার জন্য হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো হলে গত ১৫ অক্টোবরে অভিযুক্তকে ডেকে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। তবে সে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায়।
মামলার পর ১১ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে হল প্রশাসন এক জরুরি সভায় অভিযুক্ত তাসমিম মাহিদ চঞ্চলের আবাসিক সিট সাময়িকভাবে বাতিল করে তাকে হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়। হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আইনগত প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং হলের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অমর একুশে হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন জানান, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের হওয়ায় বিধি অনুযায়ী তাকে হলে অবস্থানের অনুমতি দেওয়া যায় না। এ বিষয়ে আবাসিক শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে তার আসন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে মামলার পর ভুক্তভোগীকে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর দাবি, অভিযুক্তের দুলাভাই ইশতিয়াক আহমেদ তাকে সহযোগিতা করে তার ব্যক্তিগত মেসেজ ও তথ্য বিভিন্নজনের কাছে ছড়িয়ে দিয়েছেন। এছাড়া অভিযুক্ত বিভিন্ন ব্যক্তিকে তার ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও দেখিয়ে সামাজিক অপপ্রচার চালাচ্ছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, আসামীর কথায় বিশ্বাস করে আমি গত ২৯ আগস্ট আমার বাসা থেকে পালিয়ে তার কাছে চলে আসি আমার পরিবারের সাথে সম্পর্ক ত্যাগ করে। সে প্রতারণামূলক উদ্দেশ্য নিয়েই আমার সাথে শুরু থেকে সম্পর্কে থেকেছে এবং বিভিন্নসময় বিভিন্নভাবে ব্লাকমেইল করে গিয়েছে। রিসেন্ট সে কল করে আমাকে হুমকি দেয় এবং জানায় সে আমার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমাকে আর ছাড়বে না। এই মূহুর্তে আমি ভিষণ নিরাপত্তাহীনতায় আছি।
তিনি আরও বলেন, তার দুলাভাই এসবে প্ররোচনা দিয়েছে এবং সে আমার এবং আসামীর ব্যক্তিগত কথোপকথন বিভিন্নজনের কাছে ছড়িয়েছে। এ ব্যাপারে শাহবাগ থানাতে একটি জিডি ও হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত তাসমিম মাহিদ চঞ্চলের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।
এ প্রসঙ্গে ধানমন্ডি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, ঘটনার বিষয়ে একটি মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেফতারে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
সময়ের আলো/ এসকে/