২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালকে ঘিরে রাজধানীসহ সারা দেশে ফুটবল উৎসবের আবহ বিরাজ করছে। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোপের পরাশক্তি স্পেনের মধ্যকার শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচকে সামনে রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসেও দেখা গেছে ব্যাপক উচ্ছ্বাস। প্রিয় দলের জার্সি, পতাকা, ব্যানার ও বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন ঘিরে ক্যাম্পাসে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
বিশ্বকাপ শুরুর আগ থেকেই আর্জেন্টিনা, ব্রাজিলসহ বিভিন্ন দলের সমর্থকরা নানা আয়োজনে ক্যাম্পাসকে প্রাণবন্ত করে তোলে। টিএসসিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি স্থানে বড় পর্দায় খেলা দেখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিভিন্ন আবাসিক হলেও টাঙানো হয়েছে প্রিয় দলের পতাকা। টুর্নামেন্টের শেষ পর্যন্ত লড়াইয়ে টিকে আছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। তবে বাংলাদেশের ফুটবল সংস্কৃতিতে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকদের দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে ব্রাজিল বিদায় নেওয়ার পর অনেক ব্রাজিল সমর্থক স্পেনের পক্ষ নিয়েছেন। ফলে মাঠে আর্জেন্টিনা-স্পেনের লড়াই হলেও ক্যাম্পাসে সেটি যেন আর্জেন্টিনা বনাম স্পেন-সমর্থিত ব্রাজিল শিবিরের লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে।
আর্জেন্টিনা সমর্থকদের প্রত্যাশা, আক্রমণাত্মক ও ছন্দময় ফুটবল খেলে স্পেনকে হারিয়ে আরও একটি বিশ্বকাপ শিরোপা জিতবে দলটি। বিশেষ করে লিওনেল মেসির শেষ বিশ্বকাপ হওয়ায় তার হাতেই ট্রফি দেখতে চান সমর্থকরা। অন্যদিকে স্পেন সমর্থকদের বিশ্বাস, লামিন ইয়ামালের নেতৃত্বে বল দখলভিত্তিক ফুটবল ও পরিকল্পিত আক্রমণের মাধ্যমে স্পেন বিশ্বসেরার মুকুট জিততে সক্ষম হবে। তবে আর্জেন্টিনার শক্তিশালী আক্রমণভাগ সামলানোই স্পেনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন তারা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলের শিক্ষার্থী ও আর্জেন্টিনা সমর্থক রিয়াজ উল্লাহ বলেন, ‘মেসির এটাই শেষ বিশ্বকাপ। তাই শেষ হাসিটা মেসির মুখেই দেখতে চাই। সেই হাসি যেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের হাসি হয়।’
কবি জসীমউদ্দীন হলের শিক্ষার্থী জাফিরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রত্যেক সমর্থকই চাইবে তার প্রিয় দল চ্যাম্পিয়ন হোক। আর সেই দলে যখন লিওনেল মেসির মতো খেলোয়াড় থাকেন, তখন প্রত্যাশা আরও বেড়ে যায়। তবে স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচটি সহজ হবে না। তবু আর্জেন্টিনার মানসিক দৃঢ়তা ও ইতিবাচক মনোভাবই শিরোপা জয়ের বড় শক্তি হতে পারে।’
কবি সুফিয়া কামাল হলের শিক্ষার্থী জামিয়া আক্তার বলেন, ‘বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর থেকেই উৎসবের পরিবেশ। নিজের দল ফাইনালে খেললে আনন্দটা ঈদের মতোই। আশা করছি, আর্জেন্টিনা আবারও চ্যাম্পিয়ন হবে। তবে ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের কারণে স্বস্তিতে খেলা দেখা যায়নি। নারী হয়রানি ও অপ্রীতিকর ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হোক, সেটাই প্রত্যাশা।’
অন্যদিকে ব্রাজিল সমর্থক রাফি হাসান বলেন, ‘আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচ কঠিন হবে। তবে স্পেনের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স আমাদের আশাবাদী করছে। মেসির প্রতি সম্মান থাকলেও সমর্থন থাকবে স্পেনের পক্ষেই।’
নিরাপত্তা জোরদারে ডাকসুর চার দফা দাবি : বিশ্বকাপের ম্যাচ প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপ্রীতিকর ঘটনা ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ফাইনাল উপলক্ষে চার দফা দাবি জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)।
দাবিগুলো হলো- আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় পুরো ক্যাম্পাস নিয়ন্ত্রণে রেখে প্রবেশাধিকার সংরক্ষণ; শাহবাগ, নীলক্ষেত, ফুলার রোড, অফিসার্স টাওয়ার, দোয়েল চত্বর ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান গেটে নিরাপত্তা জোরদার করে শুধু বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের প্রবেশ নিশ্চিত করা; অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি সেবার যানবাহন ছাড়া সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রাখা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে বড় পর্দায় ম্যাচ প্রদর্শন বন্ধ রাখা।
ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সর্ব মিত্র চাকমা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছয়টি স্থানে খেলা দেখানোর অনুমতি দিলেও নিরাপত্তা ও ধারণক্ষমতা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। ফলে নারী শিক্ষার্থীরা বহিরাগতদের হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এ ছাড়া শব্দদূষণ, মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ চুরির ঘটনাও ঘটছে। প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং তারা ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
ফাইনাল উপলক্ষে ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ : ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনাল উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাম্পাসে প্রবেশ ও যান চলাচলে বিশেষ নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে।
শনিবার প্রক্টর অফিসের এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১৯ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে ২০ জুলাই ভোর ৬টা পর্যন্ত শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী ছাড়া অন্যদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিয়ন্ত্রিত থাকবে। একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকারযুক্ত যানবাহন এবং অ্যাম্বুলেন্স, চিকিৎসক ও রোগীবাহী যান, সাংবাদিক, রাইড-শেয়ার, খাবার সরবরাহকারী ও অন্যান্য জরুরি সরকারি যানবাহন ছাড়া অন্য যানবাহনের প্রবেশ সীমিত থাকবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পলাশী থেকে দোয়েল চত্বর হয়ে হাইকোর্ট মোড় পর্যন্ত সড়কটি উন্মুক্ত থাকবে। তবে গণপরিবহন ও ভারী যানবাহনের প্রবেশ আগের মতোই নিয়ন্ত্রিত থাকবে।
সময়ের আলো/এসএকে