শীতকালে সোয়েটার অপরিহার্য হলেও অনেকের ক্ষেত্রে খালি গায়ে সোয়েটার পরলে চুলকানি, লালচে ভাব বা র্যাশ দেখা দিতে পারে বলে জানান চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা।
রুক্ষ তন্তু, বিশেষ করে উলের সোয়েটার, ত্বকের সঙ্গে ঘর্ষণে জ্বালা সৃষ্টি করে, যার ফলে লালচে ভাব, চুলকানি বা র্যাশ হতে পারে; সংবেদনশীল ত্বক, একজিমা বা শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি।
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, কিছু মানুষের উল, রং বা কাপড় প্রক্রিয়াকরণে ব্যবহৃত রাসায়নিকের প্রতি অ্যালার্জি থাকতে পারে, যার ফলে অ্যালার্জিক কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিস দেখা দেয়।
চিকিৎসকদের মতে, উলের পোশাক সরাসরি ত্বকের সংস্পর্শে এলে অনেকের ক্ষেত্রেই ত্বকে সমস্যা দেখা দেয়। কিন্তু কেন এমন হয়? চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এর নেপথ্যে রয়েছে প্রধানত দুটি কারণ। প্রথমত, উলের অমসৃণ তন্তু বা ‘রাফ ফাইবার’ ত্বকের সঙ্গে ঘষা লেগে এক ধরনের যান্ত্রিক অস্বস্তি বা ‘মেকানিক্যাল ইরিটেশন’ তৈরি করে। যাদের ত্বক স্পর্শকাতর কিংবা যাদের একজিমা বা শুষ্ক ত্বকের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি প্রকট হয়।
দ্বিতীয় কারণটি হল, ‘অ্যালার্জিক কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিস’। অনেকেরই উল, উলের ডাই (রং) বা কাপড় প্রক্রিয়াকরণে ব্যবহৃত রাসায়নিকের প্রতি অ্যালার্জি থাকে। এ ছাড়া, ভারী সোয়েটার শরীরের তাপ ও ঘাম আটকে রাখে। এই উষ্ণ ও আর্দ্র পরিবেশ ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাক সংক্রমণের আদর্শ ক্ষেত্র হয়ে ওঠে, যার ফলে দেখা দিতে পারে হিট র্যাশ।
তবে সাধারণ অস্বস্তি আর অ্যালার্জির মধ্যে পার্থক্য বোঝা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, সাধারণ ইরিটেশন হলে সোয়েটার পরার সঙ্গে সঙ্গেই চুলকানি বা সুড়সুড়ি শুরু হয় এবং সোয়েটার খুলে ফেললে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা ঠিক হয়ে যায়।
কিন্তু অ্যালার্জি বা কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিস হলে সমস্যা আরও গভীর। এক্ষেত্রে তীব্র চুলকানি, লাল চাকা চাকা দাগ, এমনকি ছোট ছোট ফুসকুড়ি বা ফোস্কাও দেখা দিতে পারে। এই সমস্যা সোয়েটার খোলার পর সহজে সারে না এবং বারবার পরলে পরিস্থিতির অবনতি হয়।
সমাধান কী?
শীতের আরাম উপভোগ করতে হলে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি। যাদের ত্বক সংবেদনশীল, তারা সোয়েটারের নিচে অবশ্যই একটি সুতির পাতলা পোশাক (Cotton Inner) পরে নিন। সরাসরি পশমের ছোঁয়া এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। এ ছাড়া মেরিনো উল, বাঁশ বা ফ্লিসের মতো নরম তন্তুর পোশাক বেছে নিতে পারেন।
নতুন সোয়েটার ব্যবহারের আগে অবশ্যই তা ধুয়ে নেবেন, যাতে অতিরিক্ত রাসায়নিক বা রং ধুয়ে যায়। সবচেয়ে জরুরি হল ত্বককে আর্দ্র রাখা। পর্যাপ্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে ত্বকের রক্ষাকবচ শক্তিশালী হয়। মনে রাখবেন, অস্বস্তি শুরু হলেই কালক্ষেপ না করে সোয়েটারটি খুলে ফেলা উচিত।
শীতে সোয়েটার পরবেন যেভাবে
যাদের ত্বক সংবেদনশীল বা একজিমা-প্রবণ, তাদের জন্য সতর্কতা জরুরি।
• সোয়েটারের নিচে সুতির ইনার পরুন
• রুক্ষ উলের বদলে ফাইন মেরিনো উল, কটন ব্লেন্ড, বাঁশ ফাইবার বা ফ্লিস বেছে নিন
• নতুন সোয়েটার পরার আগে অবশ্যই ধুয়ে নিন, এতে রং ও রাসায়নিক অনেকটাই দূর হয়
• নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করে ত্বকের সুরক্ষা স্তর মজবুত রাখুন
• অতিরিক্ত গরম এড়িয়ে চলুন
যদি সোয়েটার পরার পর চুলকানি বা লালচে ভাব শুরু হয়, দেরি না করে সোয়েটার খুলে ফেলাই সবচেয়ে ভালো—না হলে সমস্যা আরও বাড়তে পারে।
শীতে আরামদায়ক পোশাকই হোক ত্বকের জন্য নিরাপদ।
সময়ের আলো/এআর