ভালোবাসার রঙে রাঙা ফেব্রুয়ারি। রোজ ডে ও প্রপোজ ডের পর ভালোবাসা সপ্তাহের তৃতীয় দিনে এসে হাজির হয়েছে চকলেট ডে। সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি- যেদিন ছোট্ট একটি চকলেটও হয়ে উঠতে পারে গভীর অনুভূতির ভাষা। অভিমান ভাঙানো থেকে শুরু করে সম্পর্কের উষ্ণতা বাড়াতে চকলেট যেন ভালোবাসার নীরব দূত।
পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রভাবে বাংলাদেশেও তরুণ-তরুণীদের মাঝে এই দিনটি ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ঐতিহাসিকভাবে চকলেট ডে পালনের নির্দিষ্ট কোনো প্রামাণ্য সূত্র না থাকলেও, ভ্যালেন্টাইন সপ্তাহে এটি জায়গা করে নিয়েছে মিষ্টি ভালোবাসার এক আনন্দঘন উপলক্ষ হিসেবে।
চকলেটের নামের পেছনের গল্পও কম আকর্ষণীয় নয়। গুগলসহ বিভিন্ন ভাষাতাত্ত্বিক সূত্র অনুযায়ী, ‘চকলেট’ শব্দটির উৎপত্তি স্প্যানিশ ভাষা থেকে। তবে এর শিকড় আরও গভীরে- অ্যাজটেকদের নাহুয়াতি ভাষার ‘xocolatl’ শব্দে। এখানে ‘xococ’ মানে তেতো বা টক এবং ‘atl’ মানে তরল বা পানীয়।
ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, চকলেটের স্বাদ প্রথম আবিষ্কার করে লাতিন আমেরিকার প্রাচীন মায়া সভ্যতা। তাদের ভাষায় ‘স্কোকোলেট’ ছিল এক ধরনের অম্ল পানীয়, যা কোকো বীজ থেকে তৈরি হতো। তখন চকলেট ছিল পানীয় কিংবা রান্নার উপাদান- আজকের মতো মিষ্টি বার নয়।
আরও পড়ুন
পরবর্তীতে অ্যাজটেকরা মায়াদের কাছ থেকে কোকোর ব্যবহার রপ্ত করে। তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবতা কোয়েটজালকটল মানবজাতির জন্য কোকো গাছ উপহার দিয়েছেন। কোকোকে তারা দেবতার দান মনে করত এবং দেবতাকে চকলেট উৎসর্গ করার ঘটনাও ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে।
ভালোবাসার এই দিনে প্রিয়জনকে চমকে দিতে চাইলে দোকানে ছুটতে হবে এমন নয়। অল্প কিছু উপকরণেই ঘরে বসে তৈরি করা যায় মজাদার চকলেট।
ঘরোয়া চকলেট বানাতে যা লাগবেআধা কাপ কোকো পাউডার, ২ টেবিল চামচ মাখন, ১ টেবিল চামচ সাদা তেল, ৩ টেবিল চামচ মধু ও এক চিমটি লবণ।
প্রস্তুত প্রণালিএকটি পাত্রে সব উপকরণ একসঙ্গে নিয়ে ভালো করে নেড়ে নিন। মিশ্রণ ঘন হলে পছন্দমতো আকার দিন- চকলেট বল কিংবা ছোট বার। যারা বেশি মিষ্টি পছন্দ করেন, তারা চাইলে মধুর পরিমাণ বাড়াতে পারেন।
চকলেট ডে মানে শুধু মিষ্টি খাওয়া নয়- এটা অনুভূতি প্রকাশের এক সহজ অথচ গভীর উপলক্ষ। তাই আজ একটি চকলেটের সঙ্গে বলে ফেলুন না বলা কথাগুলো-‘ভালোবাসি’।
এএডি/