রক্ত পরীক্ষার রিপোর্টে ফাস্টিং সুগার অল্প বেশি এসেছে, কিন্তু ডাক্তার বললেন—এখনো ডায়াবেটিস নয়, তবে প্রি-ডায়াবেটিস। অনেকেই এই কথায় স্বস্তি পান, আবার কেউ কেউ বিষয়টি হালকাভাবে নেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রি-ডায়াবেটিস মানে শরীর ইতোমধ্যেই সতর্ক সংকেত দিচ্ছে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেক বেশি।
প্রি-ডায়াবেটিস কি?
প্রি-ডায়াবেটিস হলো এমন একটি অবস্থা, যেখানে রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি, কিন্তু ডায়াবেটিস হিসেবে ধরা পড়ার মতো অতটা বেশি নয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, ফাস্টিং ব্লাড সুগার ১০০–১২৫ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার বা এইচবিএ১সি ৫.৭–৬.৪ শতাংশ হলে তাকে প্রি-ডায়াবেটিস বলা হয়। এই অবস্থায় শরীর ধীরে ধীরে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের দিকে যাচ্ছে।
প্রি-ডায়াবেটিস হওয়ার কারণ
প্রধান কারণগুলোর মধ্যে আছে—অতিরিক্ত ওজন, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, বংশগত ঝুঁকি এবং দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, জীবনযাপনজনিত পরিবর্তনই প্রি-ডায়াবেটিসের অন্যতম বড় কারণ।
ঝুঁকিপূর্ণ কারা
নিচের মানুষদের প্রি-ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি—
বয়স ৩৫ বছরের বেশি
পরিবারের মধ্যে ডায়াবেটিসের ইতিহাস আছে
পেটের মেদ বেশি
গর্ভাবস্থায় জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস হয়েছিল
উচ্চ রক্তচাপ বা কোলেস্টেরল সমস্যা আছে
লক্ষণ নেই, সচেতন থাকুন
প্রি-ডায়াবেটিসের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো—প্রায়শই তেমন কোনো স্পষ্ট উপসর্গ থাকে না। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ক্লান্তি, ওজন বাড়ার প্রবণতা বা হঠাৎ বেশি ক্ষুধা দেখা দিতে পারে।
প্রি-ডায়াবেটিস কি রিভার্স করা সম্ভব?
ভালো খবর হলো—হ্যাঁ, প্রি-ডায়াবেটিস অনেক ক্ষেত্রে রিভার্স করা সম্ভব।
সিডিসির গবেষণা অনুযায়ী, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, ৫-৭ শতাংশ ওজন কমানো, এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস প্রি-ডায়াবেটিস থেকে ডায়াবেটিসে যাওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়।
জীবনধারায় পরিবর্তন কীভাবে করবেন
প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটাহাঁটি বা হালকা ব্যায়াম
ভাত, রুটি ও মিষ্টিজাতীয় খাবার পরিমিত খাওয়া
শাকসবজি, ডাল ও আঁশযুক্ত খাবার বাড়ানো
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা
নিয়মিত রক্তে শর্করা পরীক্ষা করা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিবর্তনগুলো অনেক সময় ওষুধ ছাড়াই রক্তে শর্করাকে স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।
প্রি-ডায়াবেটিস নিয়ে ভুল ধারণা
এখনো ডায়াবেটিস হয়নি, তাই চিন্তার কিছু নেই
ওষুধ খেলেই সব ঠিক হয়ে যাবে
সময়মতো জীবনধারার পরিবর্তন নিলে ডায়াবেটিস পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব
কখন ডাক্তারের পরামর্শ জরুরি
বারবার ক্লান্তি অনুভব করলে
হঠাৎ ওজন বাড়তে থাকলে
ফাস্টিং সুগার বারবার বেশি এলে
পরিবারের মধ্যে ডায়াবেটিসের ইতিহাস থাকলে
/ইউএমএইচ