‘১৪ কবরের মধ্যে শুধু ইউসুফেরটাই কাঁচা’

ঢাবি প্রতিনিধি

জাতীয়

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে শহিদ ইউসুফের মা আবেগভরা কণ্ঠে নিজের বেদনার কথা তুলে ধরে বলেন, আজিমপুর কবরস্থানে মোট ১৪টি কবরের মধ্যে ১৩টিই

2026-01-09T21:28:16+00:00
2026-01-09T21:28:16+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬,
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
জাতীয়
‘১৪ কবরের মধ্যে শুধু ইউসুফেরটাই কাঁচা’
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:২৮ পিএম   (ভিজিট : ১৪০)
শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন ভুক্তভোগীরা। ছবি : সময়ের আলো
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে শহিদ ইউসুফের মা আবেগভরা কণ্ঠে নিজের বেদনার কথা তুলে ধরে বলেন, আজিমপুর কবরস্থানে মোট ১৪টি কবরের মধ্যে ১৩টিই ইতোমধ্যে পাকা করা হয়েছে, কিন্তু আমার ছেলের কবরটি এখনও কাঁচা অবস্থায় পড়ে আছে। একজন মা হিসেবে প্রতি শুক্রবার কবর জিয়ারতে গিয়ে এই দৃশ্য দেখলে কষ্টে বুকটা ফেটে যায়। 

শুক্রবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

শহিদ ইউসুফের মা অভিযোগ করে বলেন, গত দুই বছর ধরে আমরা এক দফতর থেকে আরেক দফতরে ঘুরলেও কোথাও আমাদের কথা শোনা হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে অফিসে প্রবেশের সুযোগ না দিয়ে গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে বলা হয়। 

তিনি বলেন, দেশের জন্য তাদের সন্তানেরা জীবন ও রক্ত দিয়েছে, অথচ এর বিনিময়ে তারা অবহেলা ও লাঞ্ছনার শিকার হচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, একমাত্র সন্তানকে হারানোর পরও আমাকে প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে স্থায়ী ঠিকানা ছেড়ে এলাকা পরিবর্তন করতে হয়েছে। পাশাপাশি সন্তানের নামে মামলা দেওয়ার ভয় দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ সময় তিনি জানান, এসব পরিস্থিতির কারণে তার ছোট ছেলেকে গত বছর স্কুলে ভর্তি করানো সম্ভব হয়নি, চলতি বছরও তা করা যাচ্ছে না।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই পরিণতির জন্যই কি তার সন্তান দেশের জন্য জীবন দিয়েছিল।

সংবাদ সম্মেলনে যাত্রাবাড়ীতে শহিদ শাওন তালুকদারের বাবা অভিযোগ করে বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে আমার ছেলে শহীদ হওয়ার পর ২০২৬ সাল এসে গেলেও এখনো তার নাম সরকারি শহিদ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। 

তিনি জানান, গত ৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ীর মোড়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে তার ছেলে শহিদ হন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে মরদেহ গ্রহণ করে দাফন সম্পন্ন করা হয়।

তিনি আরও বলেন, চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি আজিমপুরে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র জমা দেওয়া হলেও এখনো এমআইএস সম্পন্ন হয়নি, গেজেটও প্রকাশিত হয়নি। সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে কেবল জানানো হচ্ছে যে প্রক্রিয়া বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি পারিবারিক সংকটের কথাও তুলে ধরে বলেন, শহিদ শাওন ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। আমি নিজে অসুস্থ এবং পরিবারে আরেকটি মেয়ে রয়েছে। সংসারের পুরো দায়িত্ব শাওনের ওপরই ছিল। ছেলেকে হারানোর পর পরিবার নিয়ে চরম দুর্দশার মধ্যে দিন কাটছে বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শহিদ ও আহত সেলের সম্পাদক তামিম খান বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে বহু মানুষ শহিদ ও আহত হলেও সরকার শহিদ-আহতদের তালিকাকরণ ও সেবা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। 

তিনি জানান, যাচাই শেষে ঢাকা জেলায় ৩২৯ জন শহিদ ও প্রথম ধাপে ১,৪৮৫ জন আহতকে তালিকাভুক্ত করা হয়।


তবে রাজনৈতিক চাপ ও ভুয়া তালিকার অভিযোগে গত ১২ ফেব্রুয়ারি এমআইএস ও তালিকাকরণ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়, ফলে বহু প্রকৃত আহত তালিকার বাইরে থেকে যান।

তিনি আরও বলেন, গণবিজ্ঞপ্তির অভাবে অনেক আহত জানতেই পারেননি কীভাবে তালিকাভুক্ত হতে হবে এবং গুলিবর্ষণকারী পুলিশ সদস্যদের দিয়ে ভেরিফিকেশন করানো অমানবিক।

সংবাদ সম্মেলন থেকে দ্রুত শহিদ ও আহতদের তালিকা চূড়ান্ত, এমআইএস ও গেজেট প্রকাশ এবং রাষ্ট্রীয় সুবিধা নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়।

সময়ের আলো/জেডআই


  বিষয়:   জুলাই  গণঅভ্যুত্থান  শহিদ 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: