শীতে কাঁপছে পুরো দেশ, শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

পৌষের হাড় কাঁপানো শীতে কাঁপছে রাজধানীসহ পুরো দেশ। ঘনকুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহে কনকনে হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। দেশের

2026-01-10T20:46:09+00:00
2026-01-10T20:46:09+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
শীতে কাঁপছে পুরো দেশ, শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:৪৬ পিএম 
শীতে কাঁপছে পুরো দেশ, শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। ছবি : সংগৃহীত
পৌষের হাড় কাঁপানো শীতে কাঁপছে রাজধানীসহ পুরো দেশ। ঘনকুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহে কনকনে হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। দেশের বিভিন্ন জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু ও মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ। সকাল ও সন্ধ্যা প্রচণ্ড শীতের কারণে মানুষজনের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে। মোটা জ্যাকেট, মাফলারে ঢেকে মানুষজনকে জবুথবু হয়ে পথ চলতে দেখা যায়। যদিও অনেক এলাকায় ঘন কুয়াশার দাপট কিছুটা কমছে কিন্তু হিমেল বাতাসে অনুভূত হচ্ছে হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় বিপাকে পড়েছেন শিশু, বয়স্ক ও খেটে খাওয়া মানুষ। পাশাপাশি বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। পাশাপাশি ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। এছাড়াও গ্রামাঞ্চলে কুয়াশার কারণে সড়ক-মহাসড়কে যানবাহনগুলো চলছে হেডলাইট জ্বালিয়ে। বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে।  

শনিবার (১০ জানুয়ারি) আবহাওয়া অফিস বলছে, দেশের ১৯ জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে শৈত্যপ্রবাহ। এর আগের দিন শুক্রবার মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ ছিল দেশের ২৪ জেলায়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিরাজমান শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশা আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এ অবস্থায় সড়ক, নৌ ও বিমান চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে এ সময় সারাদেশের আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকবে এবং বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই।

আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্যমতে, শনিবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়ও চুয়াডাঙ্গায় ৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শুক্রবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা তেঁতুলিয়ায় ৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল। আর ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা আগের দিন ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।

অধিদফতর বলছে, আগামী দুই দিন তাপমাত্রা আরও কিছুটা বাড়তে পারে। তবে তাতে যে শৈত্যপ্রবাহ একেবারে কমে যাবে, তা নয়। আগামী সোমবার থেকে তাপমাত্রা আবার কমতে শুরু করবে।

সংস্থাটি জানায়, রাজশাহী ও রংপুর এই দুই বিভাগে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এই দুই বিভাগে জেলার সংখ্যা ১৬। এর পাশাপাশি যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া এই তিন জেলায়ও বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। সব মিলিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়া জেলার সংখ্যা ১৯।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, রোববার সকাল ৯টা থেকে সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। বিরাজমান শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে, যা কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এদিন সারাদেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

সোমবার সকাল ৯টা থেকে সারাদেশে অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং তা কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এ সময়ও কুয়াশার কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থায় সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে। এদিন সারাদেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানায়, টানা দুই দিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় । বর্তমানে জেলাটিতে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ কেটে বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। ঘন কুয়াশার দাপট কিছুটা কমলেও হিমেল বাতাসে অনুভূত হচ্ছে হাড় কাঁপানো ঠান্ডা। এতে বিপাকে পড়েছেন জেলার বাসিন্দারা।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যাবেক্ষণাগার সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সারা দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ৯৯ শতাংশ এবং বাতাসের গতিবেগ ছিল প্রতি ঘণ্টায় ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার। কুয়াশার দাপট কিছুটা কমলেও উত্তরের হিমেল বাতাসে কাবু হয়ে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষেরা। সকাল ১০টার দিকে সূর্যের মুখ দেখা গেলেও রোদের তীব্রতা না থাকায় দিনে অনুভূত হচ্ছে কনকনে ঠান্ডা।

এর আগে শুক্রবার সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সারা দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়। এদিন ওই এলাকার ওপর দিয়ে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যায়। তবে সকাল সকাল ঘন কুয়াশা কেটে গিয়ে দিনের বেলা ছিল ঝলমলে রোদ। এতে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা বেড়ে যায়। গতকাল বিকেলে তেঁতুলিয়ায় দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, কোনো এলাকায় তাপমাত্রা ২ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামলে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ, ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ, ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ এবং ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যায়।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় বলেন, তেঁতুলিয়ায় বর্তমানে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ কেটে গিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। দুই দিন ধরে আকাশে হালকা মেঘ আছে। তবে কুয়াশা কম থাকায় দিনের বেলা রোদের দেখা মিলবে।

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানায়, কুড়িগ্রামে গত কয়েক দিনে তীব্র শীত ও ঠান্ডায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এতে করে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন ও দরিদ্র আয়ের মানুষরা। বিশেষ করে চরাঞ্চলের দরিদ্র মানুষের কষ্ট বেড়েছে বহুগুণ। রাত থেকে সকাল পর্যন্ত হিমশীতল বাতাসে কাঁপুনি বাড়ছে। সূর্যের দেখা মিললেও তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হচ্ছে না।

শনিবার সকাল ৬টায় কুড়িগ্রামে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজারহাট আবহাওয়া ও কৃষি পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার।

রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের বাসিন্দা আশিক মিয়া বলেন, শীতের কারণে আমি সকালবেলা রিকশা নিয়ে বের হতে পারিনি। আয় কমে যাওয়ায় সংসারে অভাব লেগেই আছে। বউ-ছেলে-মেয়ে নিয়ে খুব কষ্টে আছি।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের আছিয়া বেগম বলেন, ঠান্ডার কারণে কাজ করা যায় না, বাচ্চাদের নিয়ে বাইরে বের হওয়াও কঠিন। খুব সমস্যার মধ্যে আছি।


কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের বাবু মিয়া বলেন, আমি বিলে ও নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করি। শীতের কারণে কয়েকদিন ধরে ঠিকমতো মাছ ধরতে পারছি না। সংসার চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছে।

কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা খায়রুল ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত ঠান্ডায় আমার ছেলের কয়েক দিন ধরে ডায়রিয়া শুরু হয়েছে। তাই হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছি।

কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, জেলায় শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। জেলার নয়টি উপজেলায় আক্রান্তদের যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

কুড়িগ্রাম জেলা শাখার ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল মতিন জানান, জেলার নয়টি উপজেলায় ২৫ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

সময়ের আলো/জেডআই


  বিষয়:   পৌষ  হাড় কাঁপানো  শীত  ঘনকুয়াশা  শৈত্যপ্রবাহ  ঠান্ডা  আবহাওয়া 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: