আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটে উদ্বুদ্ধ করতে বাংলাদেশ সচিবালয়ের বিভিন্ন ভবনে একাধিক ব্যানার টাঙানো হয়েছে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকাল থেকে সচিবালয়ে ব্যানারগুলো দেখা যায়। এর মধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি ব্যানারে লেখা, ‘গণভোট ২০২৬ সংসদ নির্বাচন, দেশের চাবি আপনার হাতে, পরিবর্তনের জন্য ‘হ্যা’।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ভবনে লাগানো ওই ব্যানারে আরও লেখা আছে, ‘গণভোট ২০২৬ : সংসদ নির্বাচন, আপনি কি এমন বাংলাদেশ চান, যেখানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) গঠনে সরকারি দল ও বিরোধী দল একত্রে কাজ করবে। সরকারি দল ইচ্ছেমতো সংবিধান সংশোধন করতে পারবে না। সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোটের বিধান চালু হবে।
বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার এবং গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটিসমূহের সভাপতি নির্বাচিত হবেন। যত মেয়াদই হোক, কেউ সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব পর্যায়ক্রমে বাড়বে। ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য পার্লামেন্টে একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে। দেশের বিচারব্যবস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করবে। ‘আপনার মৌলিক অধিকারের সংখ্যা (যেমন : ইন্টারনেট সেবা কখনও বন্ধ করা যাবে না) বাড়বে। দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীকে রাষ্ট্রপতি ইচ্ছেমতো ক্ষমা করতে পারবেন না। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য থাকবে। ‘হ্যাঁ’-ভোট দিলে উপরের সবকিছু পাবেন। না ভোট দিলে কিছুই পাবেন না। মনে রাখবেন, পরিবর্তনের চাবি এবার আপনারই হাতে। এছাড়া তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়েরও প্রায় একই ধরনের ব্যানার দেখা যায়।’
গত ৭ জানুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সব মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসকের কাছে গণভোটের লোগো ব্যবহার এবং প্রচারণা সংক্রান্ত ব্যানার দৃষ্টিনন্দন স্থানে প্রদর্শনের জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে। ওই চিঠিতে বলা হয়েছিল, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন একইসঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এ লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলোর ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। গুরুত্বপূর্ণ এই গণভোটের বিষয়ে ভোটারদের ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন।
আরআর