পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের নির্বাচন সংক্রান্ত আইনি জটিলতার মধ্যে আপিল বিভাগ আজ (১৫ জানুয়ারি) হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা লিভ টু আপিল এবং নির্বাচন কমিশনের (ইসি) স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে আবেদনের শুনানি শেষে আবেদনগুলো খারিজ করেছে। আপিল বিভাগ জানিয়েছে, ইসির সীমানা অনুযায়ী ১২ ফেব্রুয়ারিই হবে পাবনা ১ ও ২ আসনের নির্বাচন। এই সিদ্ধান্তের ফলে ইসি এখন দুই আসনের নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করতে পারবে।
গত ১০ জানুয়ারি ইসি দুই আসনের নির্বাচন এবং নির্বাচনি কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেছিল। এর পেছনে মূল কারণ ছিল সংসদীয় আসনের সীমানা সংক্রান্ত জটিলতা। পাবনা-১ ও ২ আসনের সীমানা পরিবর্তনের বিষয়টি হাইকোর্টের রায়ের মাধ্যমে আলোচিত হয়েছিল।
গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর হাইকোর্ট এক রায়ে পাবনা-১ আসন থেকে বেড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা বাদ দিয়ে পাবনা-২ এর সঙ্গে যুক্ত করার ইসির গেজেটকে আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করেন। আদালত একই সঙ্গে পাবনা-১ ও ২ আসন পূর্বাবস্থায় পুনর্বহাল করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংশোধিত গেজেট প্রকাশের নির্দেশ দেন। হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল দায়ের করা হয়।
এরপর ৫ জানুয়ারি আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা লিভ টু আপিলের শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত ২৪ ডিসেম্বরের সংশোধিত গেজেট স্থগিত রাখে। ২৪ ডিসেম্বরের গেজেট স্থগিত হওয়ায় ইসির ৪ সেপ্টেম্বরের মূল গেজেট কার্যকর হয়ে যায়। ওই গেজেটে সাঁথিয়া উপজেলাকে এককভাবে পাবনা-১ আসন এবং সুজানগর ও পুরো বেড়া উপজেলাকে মিলিয়ে পাবনা-২ আসন হিসেবে বিন্যাস করা হয়েছিল।
আইনি দ্বিমুখী অবস্থানের কারণে ইসি ভোট স্থগিতের পথ বেছে নেয়। পাবনা-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও আইনজীবী ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন গত ১২ জানুয়ারি আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদন করেন, যাতে ইসির স্থগিতাদেশ বাতিল করে নির্বাচনের কার্যক্রম যথাসময়ে চালু রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
আজ আপিল বিভাগের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ শুনানি শেষে আবেদনগুলো খারিজ করেছে। ফলে ইসি এখন দুই আসনে ভোট গ্রহণের প্রস্তুতি নিতে পারবে এবং ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে নির্ধারিত আছে।
ইসি সূত্র জানায়, ৬ জানুয়ারি তারা সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাকে চিঠি পাঠিয়ে পাবনা-১ ও ২ আসনের নির্বাচন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছিল।
/ইউএমএইচ