শবে মেরাজ উম্মতে মুহাম্মদির জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ পুরস্কার। এ রাতে আল্লাহ তায়ালা তার প্রিয় রাসুলকে বিশেষ অভ্যর্থনার মাধ্যমে কাছে ডেকে নিয়েছিলেন। এ ছাড়া আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রিয় বন্ধুকে নিজের কাছে বিশেষ দাওয়াতের মাধ্যমে পার্থিব জগৎ ছেড়ে ঊর্ধ্বজগতে নেওয়ার মাধ্যমে পৃথিবীবাসীকে একটি আশ্চর্য ঘটনা উপহার দিয়েছেন। সে সময় রকেট, বিমান বা বর্তমান আধুনিক কোনো মাধ্যম ছাড়া খুব অল্প সময়ে এত কিছু ঘুরিয়ে দেখিয়েছেন। সিদরাতুল মুনতাহা, জান্নাত-জাহান্নাম, সব ঘুরে দেখিয়েছেন ফেরেশতার মাধ্যমে। সহিহ বুখারির ৩৮৮৭ নম্বর হাদিসের মেরাজের বৃত্তান্ত বর্ণিত হয়েছে। ইসলামের ইতিহাসে শবে মেরাজ একটি বিশেষ মাহাত্ম্যপূর্ণ ঘটনা। বিশেষ ঘটনা ছাড়া এই রাত উপলক্ষে কোনো ইবাদত-বন্দেগির আলাদা বিধান দেওয়া হয়নি। তবে বিশ্ব মুসলিম এটি বিশেষ ঘটনা হিসেবে স্মরণ করেন।
মেরাজের ঘটনাকে অলীক কিংবা কাল্পনিক অথবা জাদুবিদ্যার বহিঃপ্রকাশ বলার কোনো সুযোগ নেই। মেরাজের ঘটনা পুরোটাই ঈমানের সঙ্গে সম্পর্কিত। এখানে বিশেষ ফজিলত মনে করে মনগড়া কোনো আমল বা রেওয়াজ পালনেরও সুযোগ নেই। বিশেষ করে আমাদের দেশে প্রচলিত মেরাজের ঘটনা কেন্দ্র করে মিছিল-সমাবেশ, র্যালি, মেরাজের বিশেষ বাহন বোরাকের আকৃতিতে কোনো জন্তু বানিয়ে শোডাউন করা গর্হিত কাজ। এসব অনর্থক কাজ থেকে নিজেদের বিরত রেখে মেরাজের আসল তাৎপর্য অনুধাবন করতে হবে। বিশেষ করে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত হাদিয়া নামাজ সঠিক সময়ে আদায় করা।
এ ছাড়া শিরক না করা, পিতা-মাতার অবাধ্যচারণ না করা, এতিমের মাল আত্মসাৎ করা থেকে বিরত থাকা, সম্পদের অপব্যবহার রোধ করা, খাদ্যাভাবে সন্তানকে হত্যা না করা, অহংকার ও অনুমাননির্ভর কাজ থেকে বিরত থাকা, জিনা-ব্যভিচারের ধারে-কাছেও না যাওয়া, প্রতিবেশীর হক আদায় করাসহ ইত্যাদি বিষয়ের শিক্ষা আমরা মেরাজের ঘটনা থেকে পাই।
শবে মেরাজ উপলক্ষে বিশেষ কোনো আমলের কথা শরিয়তে উল্লেখ করা হয়নি। তবে অন্যান্য দিনের মতোই এ রাতেও নফল ইবাদত করতে কোনো বাধা নেই। মহানবী (সা.) রমজানের প্রস্তুতি শুরু করতেন রজব মাস থেকেই। উম্মে সালমা (রা.) বলেন, নবী করিম (সা.) রমজান মাস ছাড়া সবচেয়ে বেশি রোজা পালন করতেন শাবান মাসে, অতঃপর রজব মাসে।
হজরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) বলেন, ‘যখন রজব মাস আসত, তা আমরা নবীজি (সা.)-এর আমলের আধিক্য দেখে বুঝতে পারতাম।’ কোনো কোনো বর্ণনায় পাওয়া যায়, নবীজি (সা.) রজব মাসে ১০টি রোজা রাখতেন, শাবান মাসে ২০টি রোজা রাখতেন; রমজান মাসে ৩০টি রোজা রাখতেন (দারিমি)। নফল নামাজ-রোজা যেকোনো রাতে করতে নিষেধ নেই বরং উৎসাহিত করা হয়েছে। তাই এ রাতের নির্দিষ্ট কোনো আমলের কথা না বলা হলেও কেউ আল্লাহপ্রেমে রাতের নামাজ-তেলাওয়াতে নিয়োজিত হলে অধিক সওয়াবের অধিকারী হবেন ইনশাআল্লাহ।
সময়ের আলো/এনএ