আজান শব্দের অর্থ ডাকা, জানানো, সংবাদ দেওয়া, ঘোষণা করা। শরিয়তের পরিভাষায় আজান বলা হয়, নির্দিষ্ট শব্দাবলির দ্বারা নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে নামাজের সময় প্রবেশ হওয়ার সংবাদ দেওয়া। আজান আল্লাহর জিকিরের মধ্যে সর্বাধিক বড় জিকির। এতে তাওহিদ-রিসালাতের সাক্ষ্যের সুস্পষ্ট ঘোষণা আছে। এর দ্বারা ইসলামের প্রভাব এবং শক্তি প্রকাশ পায়। হাদিসে আজান-ইকামত এবং মুয়াজ্জিনের বিশেষ ফজিলতের কথা বলা হয়েছে। আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, ‘যখন নামাজের জন্য আজান দেওয়া হয় তখন শয়তান পালায়, যাতে আজানের শব্দ কানে না যায়। তারপর যখন আজান শেষ হয়ে যায় তখন ফিরে আসে। পরে যখন ইকামত দেওয়া হয় তখন আবার পালায়।
তারপর ইকামত শেষে আবার ফিরে আসে আর মানুষের অন্তরে কুমন্ত্রণা দেওয়া শুরু করে। নামাজের মধ্যে বলতে থাকে, ওই যে ওই কথাটা মনে আছে? ওইটা মনে আছে? এভাবে এমন সব বিষয় মানুষের মনে আনতে থাকে, মানুষ এটাই মনে করতে পারে না যে সে কয় রাকাত পড়ল’ (মিশকাতুল মাসাবিহ : ৬৪)। হজরত জাবের (রা.) বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘শয়তান যখন নামাজের ডাক শুনে তখন রওহা অঞ্চল পর্যন্ত দূরে চলে যায়। বর্ণনাকারী বলেন, রওহা মদিনা থেকে ৩৬ মাইল’ (মিশকাতুল মাসাবিহ : ৩৬)। নেক বান্দারা আজান-ইকামত শুনে মসজিদে ছুটে যায়। কিন্তু বিতাড়িত শয়তানের জন্য এগুলো বোমার গোলাবারুদ। শয়তান এ ডাক সহ্য করতে পারে না। তাই আজানের শব্দ শুনে শয়তান এত দ্রুত পালায় যত দ্রুত একটা গাধা একটা বাঘ দেখলে দৌড়ায়।
মুয়াজ্জিন আজানের মাধ্যমে যখন আল্লাহর বড়ত্ব, মহত্ত্ব এবং আল্লাহ প্রদত্ত দ্বীনের শিক্ষা, তাওহিদ ও রিসালাতের ঘোষণা করে, তখন মানুষ ও জিন ব্যতীত অন্য সব সৃষ্টিজীবও তা শুনে ও বোঝে। আর কেয়ামতের দিন মুয়াজ্জিনের পক্ষে সবাই সাক্ষ্য দেবে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘মুয়াজ্জিনের কণ্ঠস্বর যতদূর পৌঁছে; মানুষ-জিন এবং যা কিছুই তার কণ্ঠস্বর শুনতে পায় তারা সবাই কেয়ামতের দিন তার ব্যাপারে সাক্ষ্য দেবে’ (মিশকাতুল মাসাবিহ : ৬৪)। আরও বর্ণিত হয়েছে, ‘কেয়ামতের দিন তিন ধরনের মানুষ সুগন্ধি মেশকের টিলার ওপর থাকবে। এক হলো ওই দাস, যে আল্লাহর হক আদায় করেছে এবং নিজের মালিকেরটাও। দ্বিতীয় ওই ব্যক্তি, যে কোনো জাতির নেতা হয়েছিল এবং তারা নেতার ওপর সন্তুষ্টও ছিল। আর তৃতীয় হলো ওই বান্দা, যে দিন-রাত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আজান দিত।’ (মিশকাতুল মাসাবিহ : ৬৫)
আজান ঈমান ও ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন এবং এর অন্তর্নিহিত অর্থ ও শব্দের গাঁথুনির দিক থেকে এটি ইসলামের অত্যন্ত ব্যাপকার্থবোধক ও পূর্ণাঙ্গ আহ্বান। আর মুয়াজ্জিন এর প্রচারক; যেন সে আল্লাহ তায়ালারই সরাসরি ঘোষক। কিন্তু আফসোস, আজ আমরা এর বাস্তব মর্ম ভুলতে বসেছি এবং আজান দেওয়াকে নিচু পেশা বানিয়ে ফেলেছি। আল্লাহ সঠিক বোঝার ও আমল করার তওফিক দিন।