মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয়শিবির হিসেবে পরিচিত বঙ্গোপসাগরের বুকে জেগে ওঠা ভাসানচর সন্দ্বীপ না নোয়াখালীর- দীর্ঘদিনের এ বিতর্কের প্রশ্নে অবশেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। এবার বঙ্গোপসাগরের বুকে জেগে ওঠা বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ভাসানচরকে নোয়াখালীর হাতিয়া থেকে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সন্দ্বীপের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মং চিনু মারমা।
গত ১৩ জানুয়ারি মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়, আন্তঃজেলা সীমানা বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গঠিত কারিগরি টিম যে প্রতিবেদন দিয়েছে, তার আলোকে ছয়টি মৌজা সন্দ্বীপ উপজেলায় অন্তর্ভুক্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হলো।
বঙ্গোপসাগরের বুকে জেগে ওঠা বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ভাসানচর। ২০১০ সালে চরটি দৃশ্যমান হলেও ২০১৭ সালে এসে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের কারণে আলোচনায় আসে দ্বীপটি। ওই বছরই জরিপের মাধ্যমে দ্বীপটি নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়।
এর আগে, চট্টগ্রাম জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিরোধপূর্ণ চরের ৬টি মৌজা ভাসানচর, শালিকচর, চর বাতায়ন, চর মোহনা, চর কাজলা ও কাউয়ারচরের সিএস (ক্যাডাস্ট্রাল সার্ভে) ও আরএস-এ পেন্টাগ্রাফ এবং আর্কাইভ জিআইএস পদ্ধতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, ভাসানচরের ৬টি মৌজা চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার সীমানায় অন্তর্ভুক্ত মর্মে দৃশ্যমান হয়। কিন্তু দিয়ারা জরিপে এই ৬টি মৌজাকে নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। সব দিক বিবেচনা করে বিরোধপূর্ণ এ চরটি (ভাসানচর) সন্দ্বীপ উপজেলার অন্তর্ভুক্ত মর্মে প্রতীয়মান হয়।
সময়ের আলো/এনএ