শহিদ আসাদের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

শহিদ আসাদ ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহিদ ছাত্রনেতা। আসাদুজ্জামান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তিনি ১৯৬৯ সালের ২০

2026-01-20T08:40:07+00:00
2026-01-20T12:11:01+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
শহিদ আসাদের মৃত্যুবার্ষিকী আজ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:৪০ এএম  আপডেট: ২০.০১.২০২৬ ১২:১১ পিএম
শহিদ আসাদ। ফাইল ছবি
শহিদ আসাদ ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহিদ ছাত্রনেতা। আসাদুজ্জামান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তিনি ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ছাত্র সংগ্রাম কমিটির ১১ দফা আদায়ের মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত হন। তার মৃত্যু ঊনসত্তরের ছাত্র আন্দোলনের পুরো অবয়বকেই পাল্টে দেয়। তা আইয়ুব খানের শাসন ও নিপীড়নমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়। আসাদ ১৯৪২ সালের ১০ জুন নরসিংদীর শিবপুরে জন্মগ্রহণ করেন।

আসাদ ছিলেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের (মেনন গ্রুপ) ঢাকা হল শাখার সভাপতি। ১৯৬৯ সালের ১৭ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলার সমাবেশ থেকে এগারো দফার বাস্তবায়ন এবং ছাত্র-জনতার ওপর পুলিশ ও ইপিআর বাহিনী কর্তৃক নির্যাতনের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম কমিটি ২০ জানুয়ারি পূর্ব পাকিস্তানের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পূর্ণ ধর্মঘট পালনের আহ্বান জানিয়েছিল। এ ধর্মঘট মোকাবিলার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে জারি করা হয় ১৪৪ ধারা। 

তথাপি বিভিন্ন কলেজের ছাত্ররা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সমবেত হয়। দুপুর ১২টার দিকে বটতলায় এক সংক্ষিপ্ত সভা শেষে প্রায় ১০ হাজার ছাত্রের একটি বিশাল মিছিল ১৪৪ ধারা ভেঙে রাজপথে পা বাড়ায়। মিছিলটি চানখাঁরপুলের কাছে তখনকার পোস্টগ্র্যাজুয়েট মেডিকেল কলেজের সামনে এলে এর ওপর পুলিশ হামলা চালায়।

প্রায় ঘণ্টাখানেক সংঘর্ষ চলার পর আসাদসহ কয়েকজন ছাত্রনেতা মিছিলটিকে ঢাকা হলের পাশ দিয়ে শহরের কেন্দ্রস্থলের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে একজন পুলিশ কর্মকর্তা খুব কাছ থেকে গুলি ছুড়ে আসাদকে হত্যা করে।


হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী মেডিকেল কলেজের দিকে ছুটে আসে। বেলা ৩টায় কোনোরকম প্রস্তুতি ছাড়াই স্বতঃস্ফূর্তভাবে বের হয় একটি বিরাট শোক মিছিল। মেয়েদের নেতৃত্বে এ মিছিল অগ্রসর হতে থাকলে সাধারণ জনগণও এতে যোগ দেয়। আসাদের মৃত্যুর প্রতিক্রিয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে বের হওয়া প্রায় দুই মাইল দীর্ঘ মিছিলটি শহরের বিভিন্ন রাস্তা প্রদক্ষিণ করে শহিদ মিনারে এসে শেষ হয়।

আসাদের মৃত্যুতে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম কমিটি পূর্ব পাকিস্তানে তিন দিনব্যাপী শোক ঘোষণা করে। এ ছাড়া কমিটি ঢাকা শহরে হরতাল এবং পরবর্তী চার দিন প্রতিবাদ মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। ২৪ তারিখে হরতালে গুলি চললে ঢাকার পরিস্থিতি গভর্নর মোনেম খানের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তখন থেকে আসাদের নাম হয়ে ওঠে নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রামের মূর্ত প্রতীক।

আরআর


  বিষয়:   শহিদ আসাদ  গণঅভ্যুত্থান  ১৯৬৯ 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: