জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের হত্যাকারীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। আবে ২০২২ সালের জুলাই মাসে নারার এক রাজনৈতিক সমাবেশে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। এই হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত তেতসুয়া ইয়ামাগামিকে হত্যার ঠিক পরপরই গ্রেফতার করা হয়েছিল।
বিচারের সময় ইয়ামাগামি নিজেই স্বীকার করেছেন, তিনি আবেকে হত্যার উদ্দেশ্যেই গুলি চালিয়েছেন। কিন্তু তার আইনজীবীরা বলেছিলেন, ইয়ামাগামি আসলে ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার। তার মা দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রতিষ্ঠিত বিতর্কিত ইউনিফিকেশন চার্চের অনুগত ছিলেন। চার্চের প্রতি তার পরিবারের অত্যধিক মানসিক ও আর্থিক চাপ ইয়ামাগামির মনে ক্ষোভ তৈরি করেছিল। তিনি বলেছেন, মূলত তিনি গির্জার নেতাদের শাস্তি দিতে চেয়েছিলেন, আবে-কে নয়।
আইনজীবীরা আরও বলেছিলেন, ইয়ামাগামির মা চার্চকে বড় অঙ্কের অর্থ দান করেছিলেন, ফলে তাদের পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থা ভেঙে পড়ে। এর পরপরই ইয়ামাগামি ২০২১ সালে চার্চের একটি ইভেন্টের ভিডিও দেখার পর আবে সম্পর্কে তার ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করেন।
আবের হত্যাকাণ্ড জাপান এবং পুরো বিশ্বের মানুষকে চমকে দিয়েছিল। একটি দেশে চার্চের কার্যক্রম এবং রাজনীতিবিদদের সঙ্গে চার্চের সম্পর্ক নিয়েও সেসময় বড় বিতর্কও সৃষ্টি করেছিল। এমনকি আবেকে হত্যার পর কয়েকজন মন্ত্রীও পদত্যাগ করেছিলেন।
আবের বিধবা স্ত্রী আকি আবে আদালতে বলেছেন, স্বামীর মৃত্যুর শোক কখনও তার কমবে না। তিনি কেবল চেয়েছিলেন, আবে বেঁচে থাকুক।
বিচারের সময় প্রসিকিউটররা বলেছিলেন, পরিবারিক সমস্যা বা চার্চের চাপ ইয়ামাগামির হত্যাকাণ্ডকে ন্যায়সঙ্গত করে না। তবে অনেকেই মনে করেন, সমাজের চাপ এবং ব্যক্তিগত হতাশা কখনও কখনও মানুষকে বড় অপরাধ করতে বাধ্য করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইয়ামাগামির প্রতি কিছুটা সহানুভূতি মূলত জাপানের মানুষের মধ্যে বিতর্কিত ধর্মীয় সংগঠন সম্পর্কে অসন্তোষের কারণে। কিন্তু তারপরও এটি তার কাজকে কোনোভাবেই ন্যায়সঙ্গত করে না।
/ইউএমএইচ