২২ হাজার মানুষের ভরসা এক সাঁকো

রানা আহমেদ, সিরাজগঞ্জ

সারাদেশ

সেতু না থাকায় সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার আগুরিয়া এলাকার ২০ গ্রামের মানুষের একমাত্র অবলম্বন বাঁশের সাঁকো। যমুনা সংযুক্ত আগুরিয়া নদীর একটি

2026-01-21T14:17:15+00:00
2026-01-21T20:45:58+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬,
৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
২২ হাজার মানুষের ভরসা এক সাঁকো
রানা আহমেদ, সিরাজগঞ্জ
প্রকাশ: বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬, ২:১৭ পিএম  আপডেট: ২১.০১.২০২৬ ৮:৪৫ পিএম
বাঁশের সাঁকো যাতায়াত করছেন আগুরিয়া এলাকার বাসিন্দারা। ছবি : সময়ের আলো
সেতু না থাকায় সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার আগুরিয়া এলাকার ২০ গ্রামের মানুষের একমাত্র অবলম্বন বাঁশের সাঁকো। যমুনা সংযুক্ত আগুরিয়া নদীর একটি সেতুর দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের। স্থায়ী সেতু নির্মাণ না হওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে এসব গ্রামের প্রায় ২২ থেকে ২৩ হাজার। বর্ষা মৌসুমে নৌকা আর শুষ্ক মৌসুমে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোই তাদের একমাত্র ভরসা।

সরেজমিনে দেখা যায়, স্থানীয়ভাবে আগুরিয়া নদী নামে পরিচিত এই নদীতে পানি কমে যাওয়ায় বিভিন্ন স্থানে চর জেগে উঠেছে। নদী পারাপারের জন্য তৈরি করা নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন। সামান্য অসাবধানতায় ঘটছে নানা দুর্ঘটনা। 

স্থানীয়রা জানান, হরিনাথপুর চর, বড়ইতলা, বেড়া খাওরুয়া, দসখাদা, মুলকান্দি, বাগভাংরা, নানাপুর চর ও বড়ধুলসহ আশপাশের অন্তত ২০টি গ্রামের মানুষ এই সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করছেন। শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়া, কৃষকদের হাটে যাওয়া কিংবা অসুস্থ ও বয়স্কদের চিকিৎসার প্রয়োজনে বাইরে যাওয়ার একমাত্র অবলম্বন এই বাঁশের সাঁকো।

তারা আরও জানান, নদীর ওপর স্থায়ী সেতু না থাকায় সময়মতো কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়া সম্ভব হয় না। ফলে বাধ্য হয়ে কম দামে স্থানীয় আড়তে ফসল বিক্রি করতে হয়। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষক। 

বাঁশের সাঁকোটি প্রতিবছর নিজ উদ্যোগে তৈরি করেন মাঝি হযরত আলী। জানতে চাইলে তিনি জানান, প্রতি বছর প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ করে সাঁকোটি নতুন করে বানাতে হয়। গ্রামবাসীরা পারাপারের বিনিময়ে বছরে এক মণ ধান দেন। বাইরের কেউ পার হলে জনপ্রতি পাঁচ টাকা নেওয়া হয়।

আগুরিয়া এলাকার কৃষক সোনাউল্লাহ জানান, ফসল উৎপাদন করলেও বাজারে নিতে পারিনা। কারণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে বড় যানবাহন চলাচল অসম্ভব। ফলে বাধ্য হয়ে কম দামে ফসল বিক্রি করতে হয়। এতে বছরের পর বছর লোকসান গুনতে হচ্ছে।


বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আফরিন জাহান বলেন, কয়েকটি সেতুর তালিকা জেলা প্রকৌশলীর কাছে পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব।

জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউর রহমান বলেন, ৭৫টি সেতু নির্মাণের অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তালিকায় থাকলে কাজ হবে, না থাকলে পরবর্তীতে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সময়ের আলো/আআ



  বিষয়:   সেতু  সাঁকো  ভোগান্তি  নাগরিক 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: