কুমিল্লা নগরীর সড়ক প্রশস্ত করতে রাতের আঁধারে কাটা হয়েছে শতবর্ষী সাতটি গাছসহ অর্ধশতাধিক গাছ। এ ঘটনায় নগরবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। টমছমব্রিজ থেকে মেডিক্যাল কলেজ সড়কে সম্প্রতি এসব গাছ কাটা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে এসব গাছ কাটার বিষয়ে কিছুই জানে না সড়ক ও জনপদ বিভাগ। অনুমতি ছিল না সামাজিক বন বিভাগের। কোনো তথ্য ছিল না জেলা প্রশাসন ও সিটি কর্পোরেশনের কাছেও। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে এমনটি জানিয়েছে সরকারী দফতরগুলো।
তবে সড়কটির উপর অবৈধ স্থাপনা রেখেই উন্নয়নের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। নগরবাসীর অভিযোগ, সড়কের উপর থেকে অবৈধ স্থাপনা না সরিয়ে যদি উন্নয়ন কাজ করা যায়, তাহলে শতবর্ষী এসব গাছ কেন রাখা গেল না?
সামাজিক বন বিভাগ কুমিল্লার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জি.এম.মোহাম্মদ কবির বলেন, সরকারী দফতর নীতিমালা মেনে গাছ কাটার আবেদন করবে। সড়ক ও জনপদ বিভাগ এ বিষয়ে কোনো চিঠি দেয়নি। এখানে গাছ কাটার কোন অনুমতিপত্র কাউকে সামাজিক বন বিভাগ প্রদান করেনি।
সিটি কর্পোরেশন জানায়, কুমিল্লা নগরীর টমচমব্রিজ থেকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন, প্রসারিত করা, সড়কের অংশিক বক্সড্রেন ও সড়ক বিভাজনের কাজ চলছে প্রায় ছয় মাস ধরে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কুমিল্লা ইপিজেডের উত্তরাংশের দেয়ালের পাশে থাকা ছোটবড় ৩০-৩৫টি গাছ ছিল। এখানে ফুল ও পাতাবাহারের গাছের বাগান আর নেই। ঢুলিপাড়া ইসলামী ব্যাংকের সামনে থেকে কাটা হয়েছে বড় বড় একাধিক রেইনট্রি গাছ। আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে সামনে কাটা হয়েছে শতবর্ষী একাধিক গাছ। কেটিসিসি কুমিল্লার সামনের গাছও আর নেই। মেডিকেল সড়কের শতবর্ষী বটগাছও কাটা হয়েছে। এছাড়াও এক কিলোমিটার অংশে ছোট বড় অর্ধশতাধিক গাছ কেটে ফেলা হয়েছে রাতের আঁধারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত ছয়মাসে এ সড়কের পাশে অর্ধশতাধিক গাছ কাটা হয়েছে। বটগাছটির বয়স দুইশত বছর হতেপারে। এছাড়াও শতবর্ষী গাছ ছিল পাঁচ থেকে সাতটি। যেহেতু দিনে মেডিকেল রোডে গাড়ি চলাচল বেশি। এসব গাছ রাতে কাটা হয়েছে।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপদ বিভাগ কুমিল্লার মো. উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আদনান ইবনে হাসান বলেন, টমচমব্রিজ থেকে বাখরাবাদ পর্যন্ত সড়কটি সড়ক ও জনপদ বিভাগের সম্পত্তি। কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন আমাদের অবগত না করে সড়কটি টেন্ডার করে। যেহেতু টেন্ডার হয়ে গেছে, কাজ না হলে টাকা ফেরত যাবে। আমরা শুধু এবারের জন্য তাদের উন্নয়ন কাজ করার অনুমতি দিয়েছি। তাও উভয় মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হওয়ার পর। সড়কে বা সড়কের পাশের কোনো গাছ কাটার বিষয়ে বলা হয়নি। বিষয়টি আমরা জানি না।
কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দিন চিশতী বলেন, আমরা সড়ক সংস্কারের জন্য ঠিকাদারকে বলেছি। গাছ কাটার বিষয়ে ঠিকাদারকে বলা হয়নি। অন্য কেউ গাছ কাটছে কিনা। আমার জানা নেই।
কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের সচিব ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ মামুন এ বষিয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই বলে জানান।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, গত রোববার মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সভায় সংশ্লিষ্ট সকল দফতরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিল। সড়কের সংস্কার বিষয়েও কথা হয়েছে। এভাবে শতবর্ষীসহ অর্ধশতাধিক গাছ কাটার বিষয়টি কেউ বলেনি। সড়ক ও জনপদ বিভাগ বলছে, জানে না। এখন তো জেনেছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
সময়ের আলো/এসকে/