টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে নওগাঁর অন্যতম সবজি উৎপাদনকারী উপজেলা বদলগাছীর মাঠের পর মাঠ পানিতে তলিয়ে গেছে। ডুবে গেছে মরিচ, বেগুন, পটল, ঢেঁড়স, করলা, তরই ও কচুর লতির খেত। এতে একদিকে যেমন প্রায় এক হাজার কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন, অন্যদিকে উৎপাদন কমে যাওয়ায় কাঁচাবাজারে মরিচসহ বিভিন্ন নিত্য সবজির দাম ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করেছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে বিভিন্ন সবজির দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতরের আরও বৃষ্টির পূর্বাভাসে কৃষক ও ভোক্তা— উভয়ের মধ্যেই নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, টানা বৃষ্টিতে উপজেলার আটটি ইউনিয়নের অন্তত ৪৫ হেক্টর সবজি আবাদি জমি পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়েছে। নিচু জমিতে দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় অনেক খেত গাছ পচতে শুরু করেছে। ফলে উৎপাদনে বড় ধরনের ধাক্কার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে বদলগাছীর সাপ্তাহিক হাট ঘুরে দেখা যায়, আগের তুলনায় বাজারে সবজির সরবরাহ কমে গেছে। এর প্রভাবে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। খুচরা বাজারে কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৬০ টাকায়। পাইকারি বাজারে বেগুন ৮০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, কচুর লতি ৫০ টাকা, তোরই ৩০ টাকা এবং পটল ২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, মাঠে উৎপাদন কমে যাওয়ায় পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে সবজি কিনতে হচ্ছে। পরিবহন ও হাতবদলের কারণে খুচরা বাজারে প্রতি কেজিতে আরও ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়ে যাচ্ছে।
বালুভরা ইউনিয়নের কৃষক মো. কামরুল হাসান তুষার বলেন, আট বিঘা জমিতে প্রায় পাঁচ হাজার পেঁপে গাছ লাগিয়েছিলাম। গত সপ্তাহের ভারী বৃষ্টিতে প্রায় তিন হাজার গাছ নষ্ট হয়ে গেছে। এতে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
সদর ইউনিয়নের কৃষক নূর ইসলাম বলেন, ১০ কাঠা জমিতে মরিচ চাষ করেছিলাম। গাছে প্রচুর ফুল এসেছিল। ভালো ফলনের আশা ছিল। কিন্তু বৃষ্টিতে পুরো খেত পানির নিচে চলে যাওয়ায় বড় ক্ষতির মুখে পড়েছি।
স্থানীয় সবজি ব্যবসায়ী লিটন হোসেন বলেন, মাঠ থেকে সবজির সরবরাহ কমে গেছে। তবে চাহিদা আগের মতোই রয়েছে। তাই বাজারে দাম বাড়ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাবাব ফারহান বলেন, টানা বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সবজির ক্ষতি হয়েছে। মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে। পাশাপাশি কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে দ্রুত পুনরায় আবাদ শুরু করা যায়।
সবজি উৎপাদনের জন্য পরিচিত বদলগাছীতে এ ধরনের ক্ষতি শুধু কৃষকদের আয়েই নয়, স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ হওয়া প্রায় ৫০০ মেট্রিক টন সবজির বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে এবং নিত্যসবজির দাম আরও ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে।
সময়ের আলো/জোই