পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় চলতি মৌসুমের রেকর্ড ভাঙা ভারী বর্ষণ জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এ উপজেলায় ২২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে স্থানীয় আবহাওয়া অফিস। অঝোর ধারার এই বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়াসহ নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে, যা নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
রোববার (১৯ জুলাই) দুপুর ১২টায় তেঁতুলিয়া প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার গত ২৪ ঘণ্টার বৃষ্টিপাতের এই চূড়ান্ত তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর আগে সকাল ৯টা পর্যন্ত ২২৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল, অর্থাৎ পরবর্তী তিন ঘণ্টায় আরও ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত যোগ হয়েছে।
গতকাল রাত থেকেই টানা বৃষ্টিতে তেঁতুলিয়ার রাস্তাঘাট জনশূন্য হয়ে পড়েছে। অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষ। বিশেষ করে সমতলের চা শ্রমিক, পাথর শ্রমিক, ভ্যান ও অটোরিকশা চালকরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। দীর্ঘক্ষণ কাজ বন্ধ থাকায় পরিবার নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন তারা। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বেচাকেনাও নেই বললেই চলে।
ভারী বর্ষণে উপজেলার নিম্নাঞ্চলের আমন ধানের চারা ও শাকসবজির জমি তলিয়ে গেছে। নদ-নদীতে পানি বাড়তে থাকায় স্থানীয়দের মাঝে বন্যার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। কৃষকরা আশঙ্কা করছেন, বৃষ্টি এভাবে আরও কয়েকদিন স্থায়ী হলে নতুন রোপণ করা আমন ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।
তেঁতুলিয়া প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় জানান, রোববার দুপুর ১২টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ২২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৫ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আগের দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
তিনি আরও জানান, মৌসুমি বায়ু অত্যন্ত সক্রিয় থাকায় এবং বঙ্গোপসাগরের লঘুচাপটি নিম্নচাপে পরিণত হয়ে উত্তরাঞ্চলে জলীয় বাষ্পের আধিক্য সৃষ্টি করায় এই ভারী বর্ষণ হচ্ছে। আবহাওয়ার এই পরিস্থিতি এবং বৃষ্টিপাত আগামী অন্তত এক সপ্তাহ অব্যাহত থাকতে পারে বলে তিনি পূর্বাভাস দিয়েছেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে এবং নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সময়ের আলো/জোই