বরগুনার গৌরীচন্না এলাকার স্থানীয় ব্যবসায়ী শামীমের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দেড় মাস পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত খণ্ডিত মাথাটি উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। খালের পানিতে দফায় দফায় জাল টেনে এবং গ্রেফতারকৃত ৬ আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করার পরও মাথার কোনো সন্ধান না মেলায় নিহতের পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
গত ৮ জুন গৌরীচন্না এলাকার একটি খাল থেকে শামীমের মাথাবিহীন দেহটি উদ্ধার করা হয়েছিল। ওই দিনই নিহতের স্ত্রী রোকসানা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ঘটনার তদন্তভার গ্রহণ করে এবং সন্দেহভাজন হিসেবে সজীব, শ্যামল, সফিক, দূর্জয়, সাগর ও শিমুল নামের ছয়জনকে গ্রেফতার করে। আদালত পর্যায়ক্রমে এই ছয় আসামির রিমান্ড মঞ্জুর করলেও হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য বা খণ্ডিত মাথার প্রকৃত অবস্থান এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. ফরিদ হোসেন জানান, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় শামীম তার দোকানে চা খেয়ে রাত ৯টার দিকে পাশের একটি দোকানে যান। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন এবং পরে খালে তার মাথাবিহীন লাশ মেলে।
প্রতিবেশী আফরুজা আক্তার সাথী প্রশাসনের তদন্তের গতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, দেড় মাস পার হলেও কেন মাথা উদ্ধার করা যাচ্ছে না? তারা চান প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক, তবে এই ঘটনার আড়ালে যেন কোনো নিরপরাধ মানুষ অযথা হয়রানির শিকার না হন।
নিহত ব্যবসায়ীর একমাত্র ছেলে মো. নাইম ও স্ত্রী রোকসানা চরম অসহায়ত্বের কথা জানিয়ে দ্রুত মাথাটি উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন। নাইম বলেন, তাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ও ভরসা ছিলেন তার বাবা। এখন তাদের দেখাশোনার আর কেউ নেই।
রোকসানা জানান, সুনির্দিষ্ট কারও নাম না জানায় তিনি অজ্ঞাতনামা মামলা করেছিলেন, পুলিশ সন্দেহের ভিত্তিতে এই ছয়জনকে ধরেছে। স্বামীর মাথাটি অন্তত শেষবারের মতো উদ্ধার করে দেওয়ার জন্য তিনি প্রশাসনের কাছে আকুতি জানান।
এ বিষয়ে বরগুনার পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা গণমাধ্যমকে জানান, এটি অত্যন্ত নির্মম একটি হত্যাকাণ্ড। আলামত পর্যালোচনা করে যে ছয়জনকে ধরা হয়েছে, তারা এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত বলে পুলিশ নিশ্চিত। তবে এর বাইরে আরও দুই-একজন জড়িত থাকতে পারে। আসামিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী খালে জাল ফেলে তল্লাশি চালানো হয়েছে। কিন্তু ওই খালে তীব্র স্রোত এবং একটি স্লুইসগেট থাকায় মাথাটি যদি ভেসে বড় নদীতে চলে যায়, তবে তা পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে। তবুও পুলিশ মাথাটি উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
সময়ের আলো/জেডি