যমুনার ভাঙনে বিলীন জনবসতি, তলিয়ে যেতে পারে ২টি বিদ্যালয়ও
কাজিপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
সারাদেশ
সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে উজানের ঢলে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বিপৎসীমা অতিক্রম না করলেও, চরাঞ্চলের নিশ্চিন্তপুর এবং চরগিরিশ ইউনিয়নের বিভিন্ন
যেকোনও সময় যমুনা নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে চরগিরিশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছবি : সময়ের আলো
সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে উজানের ঢলে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বিপৎসীমা অতিক্রম না করলেও, চরাঞ্চলের নিশ্চিন্তপুর এবং চরগিরিশ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ব্যাপক নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে ২ শতাধিক বসতভিটা, কয়েক শত বিঘা ফসলি জমি ও পাকা রাস্তা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে কোটি টাকার নবনির্মিত ৩ তলা ভবনসহ দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
সরেজমিনে জানা গেছে, চলতি আষাঢ় মাসের শুরু থেকে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। রোববার (১৯ জুলাই) উপজেলার যমুনা নদীর মেঘাই পয়েন্টে বিপৎসীমার ১০৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
পানির প্রবল স্রোতে উপজেলার চরাঞ্চলের নিশ্চিন্তপুর ইউনিয়নের চর দোরতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাকা ভবন ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে।
যমুনা নদীর ভাঙন কবলিত চরগিরিশে বিলীন হয়ে গেছে ২ শতাধিক বসতি। ছবি : সময়ের আলো
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ভাঙনের কবলে পড়েছে চরগিরিশ ইউনিয়নের ভেটুয়া এবং চরগিরিশ গ্রাম। ইতোমধ্যে ২ শতাধিক বসতি, পাকা সড়ক, ও আবাদি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে আরও শতাধিক বসতি, বাজার, একাধিক মসজিদ ও মাদরাসা এবং শত শত বিঘা আবাদি জমি। গ্রামে অবস্থিত পশ্চিম চরগিরিশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নবনির্মিত ৩ তলা ভবন যেকোনও সময় নদীগর্ভে বিলীনের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। ভাঙন কবলিত নদী তীর হতে মাত্র ১০০ গজ দূরে রয়েছে ভবনটি। ৪ মাস আগে কোটি টাকার ভবনটি উদ্বোধন করা হয়।
ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বড় স্থাপনা নির্মাণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জনসাধারণ এবং ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জরুরি কার্যক্রম পরিচালনার অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।
বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক তরিকুল ইসলাম জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান অব্যাহত রয়েছে। ভাঙনের বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ নুরুল হুদা বলেন, ‘সার্বিক পরিস্থিতি আমরা পর্যবেক্ষণ করছি, পশ্চিম চরগিরিশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নবনির্মিত ভবনটি নিলামে বিক্রির প্রক্রিয়া চলছে।’
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড সিরাজগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেসুর রহমান বলেন, ‘নিশ্চিন্তপুরে নদী ভাঙন রোধে পাউবোর জরুরি কার্যক্রম রয়েছে। এছাড়া, চরগিরিশে প্রায় ২ কিলোমিটার জায়গজুড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন রোধে একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে, পাশ হলে কাজ শুরু করা হবে।’