উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও ভারী বর্ষণে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে পাবনার বেড়া উপজেলার নদী তীরবর্তী নিচু এলাকা ও নদী সংলগ্ন গ্রামীণ রাস্তাঘাট প্লাবিত হয়েছে। তবে উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে এখনো কাঙ্ক্ষিত পানি না পৌঁছানোয় আগামী মৌসুমে চাষাবাদ নিয়ে চরম হতাশায় ভুগছেন স্থানীয় কৃষকরা।
জানা গেছে, বেড়া উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে হাটুরিয়া-নাকালিয়া, নতুন ভারেঙ্গা, পুরান ভারেঙ্গা ও ঢালারচর— এই ৪টি ইউনিয়নের অধীনে রয়েছে বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল।
চর নাকালিয়া, চর সাঁড়াশিয়া, হাটাইল আড়ালিয়া ও চর নাগদাহ গ্রাম সরেজমিনে ঘুরে এবং স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চরাঞ্চলের অধিকাংশ চাষাবাদের জমি অন্যান্য এলাকার তুলনায় বেশ উঁচু। স্বাভাবিক বর্ষা মৌসুমে এসব জমি পানিতে প্লাবিত হলে পলি মাটি জমে জমির উর্বরা শক্তি ও উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
কৃষকরা জানান, চলতি বছর আষাঢ় পেরিয়ে শ্রাবণ মাস শুরু হলেও নদীতে তুলনামূলকভাবে পানি বৃদ্ধি না পাওয়ায় চরাঞ্চলের অধিকাংশ এলাকায় এখনো বর্ষার পানি ওঠেনি।
চর নাগদাহ গ্রামের কৃষক ও ইউপি সদস্য জাহিদ মোল্লাসহ বেশ কয়েকজন চাষি জানান, বর্ষার পানি জমিতে উঠলে পলি পড়ে ফসলের ফলন অনেকটা বেড়ে যায়। কিন্তু চলতি মৌসুমসহ গত তিন বছর ধরে চরাঞ্চলের এসব জমিতে বন্যার পানি না ওঠায় আশানুরূপ ফলন পাওয়া যাচ্ছে না। উল্টো পানি না ওঠার কারণে অনেক আবাদি জমি বন-জঙ্গলে ভরে চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
চর সাঁড়াশিয়া গ্রামের কৃষক হুমায়ুন কবির জানান, চরাঞ্চলের এসব জমি প্লাবিত হতে হলে নদীতে আরও অন্তত ৪-৫ ফুট পানি বৃদ্ধি পেতে হবে।
এ বিষয়ে বেড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত কবির বলেন, বর্ষা বা বন্যার পানি জমিতে উঠলে প্রাকৃতিকভাবে পলি মাটি জমা হয়, যা জমির উর্বরতা ও উৎপাদন ক্ষমতা অনেকাংশে বাড়িয়ে দেয়। তবে চরাঞ্চলের যেসব জমিতে বর্ষার পানি উঠছে না, সেগুলোতে বিকল্প হিসেবে সেচ ব্যবস্থা এবং বেশি পরিমাণে জৈব সার ব্যবহার করলে উর্বরতা ও উৎপাদন ক্ষমতা বজায় রাখা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, বর্ষা বা বন্যার পানি জমিতে ওঠা না ওঠা সম্পূর্ণ প্রকৃতির বিষয়, যা মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তবে কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কৃষি বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সময়ের আলো/জোই