পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (এসএসএমসি) মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসকদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর চিকিৎসাধীন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদল নেতার স্ত্রীকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এর আগে, গত ২৩ জুনের ওই ঘটনার তিন-চার দিন পরেই তার গর্ভের সন্তানটি মারা যায়।
প্রয়াত ওই নারী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক অহিদুজ্জামান নিক্সনের স্ত্রী। শুক্রবার নড়াইল জেলায় নিক্সনদের গ্রামের বাড়িতে তার নামাজে জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এই দম্পতির ‘ইহান’ নামে তিন বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মাত্র আট মাস আগে মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে নিজের বাবা ও মাকে হারিয়েছেন ছাত্রদল নেতা নিক্সন। আর দিনবিশেক আগে পৃথিবীর আলো দেখার আগেই মারা যায় তার স্ত্রীর গর্ভের সন্তান। এর মাঝে এবার জীবনের সবচেয়ে বড় অবলম্বন স্ত্রীকেও হারাতে হলো তাকে।
গত ২৩ জুন রাতে মিটফোর্ড হাসপাতালের সার্জারি ভবনের চতুর্থ তলায় চিকিৎসকদের ওপর জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেলসহ ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ ওঠে। জানা যায়, অহিদুজ্জামান নিক্সনের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর অসুস্থতার খবর শুনে হাসপাতালে গিয়েছিলেন হিমেল।
সে সময় চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল, হাসপাতালে নেওয়ার পর রোগীর ভর্তিসহ নানা দাফতরিক ও প্রক্রিয়াগত কারণে চিকিৎসা দেরিতে শুরু করেন। এতে ক্ষুব্ধ ও উত্তেজিত হয়ে চিকিৎসকদের ওপর চড়াও হন ছাত্রদল নেতারা। এই ঘটনার প্রতিবাদে পরবর্তীতে একদিনের কর্মবিরতিও পালন করেছিলেন হাসপাতালটির ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
তবে মেহেদী হাসান হিমেলসহ জবি ছাত্রদল নেতারা ঘটনার পর বিষয়টি আংশিক অস্বীকার করেছিলেন। তাদের দাবি ছিল, নিক্সনের স্ত্রীর ক্রমাগত রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। তারা দ্রুত চিকিৎসা শুরুর অনুরোধ জানাচ্ছিলেন, কিন্তু চিকিৎসকদের অবহেলা ও দেরির কারণে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এই বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল গণমাধ্যমকে বলেন, ভাবির রক্তক্ষরণ কোনোভাবেই বন্ধ করা যাচ্ছিল না। মিটফোর্ডের ওই ঘটনার ৩-৪ দিন পরেই ওনার গর্ভের সন্তানটি মারা যায়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভাবিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু গতকাল রাতে তিনিও আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। একটু দ্রুত চিকিৎসা পেলে হয়ত ওনাকে ও সন্তানটিকে বাঁচানো যেত, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তা হয়নি।
নিক্সনের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে হিমেল আরও বলেন, অহিদুজ্জামান নিক্সন একজন লড়াকু ছাত্রনেতা এবং আমার দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধা। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম বর্ষ থেকেই আমরা একসঙ্গে রাজনীতি করছি। আমরা তার স্ত্রীর অকাল মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত।
সময়ের আলো/জোই