নাটোরে অবৈধ ও অনুমোদনহীন ওষুধ বিক্রির অভিযোগ একটি কারখানায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় প্রায় ১২ লাখ টাকা মূল্যের যন্ত্রপাতিসহ ও ৪০ প্রকারের ভেজাল ওষুধ ও কাঁচামাল জব্দ করা হয়।
রোববার (১৯ জুলাই) নাটোর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক।
গ্রেফতার তিনজন হলেন নাটোর সদর উপজেলার পার আটঘরিয়া গ্রামের সুলতান মিয়ার ছেলে খোকন মিয়া (২৮), একই গ্রামের খবির হোসেনের ছেলে শরিফুল ইসলাম (২৮) এবং আওরাইল দক্ষিণপাড়া গ্রামের সফিকুল ইসলামের ছেলে তারিকুল ইসলাম (২৪)।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে খোকন মিয়া জানায়, প্রায় এক বছর ধরে সে এই ব্যবসা পরিচালনা করছে। ফেসবুকের ‘এসকে নিউট্রিশন’ ও ‘অর্গানিক বায়ো কেয়ার সলিউশন’ নামে দুটি পেজের মাধ্যমে প্রতিদিন ৫০-৬০ জন ক্রেতার কাছে অনলাইনে এসব ওষুধ বিক্রি করতো। ক্রেতাদের প্রতারিত করে বছরে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ লাখ টাকা আয় করতো চক্রটি।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, অনলাইনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এসব ওষুধ বিক্রি করে বছরে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ লাখ টাকা আয় করতেন অভিযুক্তরা। যৌন উত্তেজকসহ প্রায় ৪০ ধরনের বিভিন্ন রোগের ভেজাল ওষুধ তৈরি ও বাজারজাত করতেন তারা।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অবৈধ কারখানাটি থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে কোনো ধরনের সরকারি অনুমোদন বা লাইসেন্স ছাড়াই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ওষুধ উৎপাদনের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানায় পুলিশ।
অভিযানে জব্দ করা সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে ক্যাপসুল তৈরির অত্যাধুনিক মেশিন (এনজিপি-১২০০), পাঁচটি ট্যাবলেট প্রেস মেশিন, ব্লেন্ডিং ও ড্রায়ার মেশিনসহ ১০ ধরনের যন্ত্রপাতি, কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন। এছাড়া কয়েকশ কেজি যৌন উত্তেজক ক্যাপসুল, ট্যাবলেট, বিভিন্ন রাসায়নিক কাঁচামাল এবং বাজারজাতের জন্য প্রস্তুত অ্যালার্জি ও চর্মরোগের নকল মলম ও ক্যাপসুল উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার বলেন, এসব ভেজাল ওষুধ সাময়িকভাবে উপকার দিলেও দীর্ঘমেয়াদে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ওষুধি গ্রামের সুনামকে পুঁজি করে একটি চক্র এ ধরনের অপরাধ চালিয়ে আসছিল। এদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে অনলাইনে ওষুধ কেনার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ইফতে খায়ের আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(সদর সার্কেল) উদয় কুমার সাহা, জেলা ডিবি পুলিশের ওসি নজরুল ইসলামসহ জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সময়ের আলো/আআ