চুয়াডাঙ্গা আই কেয়ার চক্ষু হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. এম. বি. আজমের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলেছেন, আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী ইউনিয়নের কুয়াতলা মোহাম্মদপুর গ্রামের বাসিন্দা ইজিবাইকচালক রশিদুল ইসলাম।
ভুক্তভোগী রশিদুল ইসলাম জানান, গত ২৯ এপ্রিল বাঁ চোখে ভাইরাসজনিত সমস্যার কারণে তিনি চুয়াডাঙ্গা আই কেয়ার চক্ষু হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যান। সেখানে ডা. আজম তার চোখ পরীক্ষা করে ওষুধ লিখে দেন। কয়েক দিন ওষুধ ব্যবহারের পর চোখে তীব্র জ্বালাপোড়া ও ব্যথা শুরু হলে, তিনি পুনরায় চিকিৎসকের কাছে যান।
রশিদুলের অভিযোগ, ওই সময় চিকিৎসক চেম্বার থেকে একটি আই ড্রপ তার চোখে প্রয়োগ করেন। এরপর থেকেই চোখের ব্যথা আরও বেড়ে যায়। একই রাতে তার বাঁ চোখের মণি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরদিন আবার চিকিৎসকের কাছে গেলে, তাকে ঢাকার ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
তিনি দাবি করেন, চিকিৎসকের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণে বর্তমানে তার বাঁ চোখের দৃষ্টিশক্তি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।
চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে, ক্ষতিগ্রস্ত চোখটি অপসারণ না করলে অন্য চোখও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
রশিদুল ইসলাম বলেন, ‘সুস্থ হওয়ার আশায় চিকিৎসা নিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু এখন একটি চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। চিকিৎসার জন্য আমার শেষ সম্বল ইজিবাইক ও একটি গরু বিক্রি করেছি। আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকেও কয়েক লাখ টাকা ধার করেছি। এত কিছু করেও চোখটি বাঁচাতে পারিনি। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।’
তবে, অভিযোগ অস্বীকার করে ডা. আজম বলেন, ‘রোগী আমার কাছে আসার আগে অন্য একজন চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নিয়েছিলেন। আমার কাছ থেকে চিকিৎসা নেওয়ার পরও তিনি আরও একজন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। শেষবার যখন তিনি আমার কাছে আসেন, তখন তার চোখের অবস্থা অনেক খারাপ ছিল। সেই অবস্থায় এখানে প্রয়োজনীয় বিশেষায়িত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব নয় বলে, তাকে ঢাকার ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে রেফার করা হয়। এছাড়া আমি যে দুটি আই ড্রপ দিয়েছিলাম, সেগুলো স্বীকৃত ও ভালো মানের ওষুধ। ওই ড্রপ ব্যবহারে চোখের এমন ক্ষতি হওয়ার কথা নয়।’
সময়ের আলো/মহু