সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার প্রাঙ্গণে সংবাদ সংগ্রহের সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সামনেই সাংবাদিকদের হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয় টেলিভিশন সাংবাদিকরা পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরসহ স্থানীয় বিএনপির পরবর্তী কর্মসূচির সংবাদ সংগ্রহ থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর বিএনপির পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর শুক্রবার সন্ধ্যায় বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী এবং সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইমরান আহমদ চৌধুরীসহ দলের কয়েকজন নেতা সিলেটের সাংবাদিকদের সংগঠন ইমজার কার্যালয়ে গিয়ে এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।
ইমজার সাধারণ সম্পাদক আনিস রহমান জানান, যেসব সাংবাদিক ঘটনাটির সময় আক্রান্ত বা হেনস্তার শিকার হয়েছেন, তারা ওই সময় উপস্থিত না থাকায় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য শনিবার সকাল ১০টায় বিএনপি নেতারা পুনরায় সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। বৈঠকে সাংবাদিকদের মতামতের ভিত্তিতে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।
এর আগে শুক্রবার জুমার নামাজের পর হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করতে যান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী সেখানে গণমাধ্যমের সঙ্গে তার কথা বলার কথা ছিল। এ জন্য মাজারের মূল ফটকের সামনে অবস্থান নেন সাংবাদিকরা।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, প্রতিমন্ত্রী মাজার থেকে বের হওয়ার সময় নেতাকর্মীদের ভিড় ও চাপের কারণে সেখানে সংবাদ সংগ্রহের পরিবেশ বিঘ্নিত হয়। পরে সাংবাদিকরা মাজারের বাইরে চলে এলে ‘জিয়ার সৈনিক, এক হও’ স্লোগান দিয়ে একদল লোক তাদের ওপর চড়াও হন। এ সময় কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীর সঙ্গে খারাপ আচরণ ও শারীরিক হেনস্তার অভিযোগ ওঠে।
যমুনা টেলিভিশনের সাংবাদিক নাবিল হোসাইন তার ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, নেতাকর্মীদের চাপে মাজার প্রাঙ্গণে কাজ করা সম্ভব না হওয়ায় গণমাধ্যমকর্মীরা বাইরে চলে আসেন। তখন কয়েকজন যুবক সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন। তাদের দাবি ছিল, ‘মন্ত্রীর বক্তব্য না নিয়ে স্থান ত্যাগের সাহস গণমাধ্যমের হয় কীভাবে।’
স্টার নিউজের সিলেট ব্যুরো চিফ ইয়াহ্ইয়া মারুফ বলেন, প্রতিমন্ত্রীর ব্রিফিং নেওয়ার জন্য সাংবাদিকরা মাজারে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু নেতাকর্মীদের ভিড় ও ধাক্কাধাক্কির কারণে মাজার প্রাঙ্গণে বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে সাংবাদিকরা বাইরে চলে এলে বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী তাদের ওপর চড়াও হন এবং টেলিভিশন সাংবাদিকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। তাৎক্ষণিকভাবে সাংবাদিকরা এর প্রতিবাদ জানান। পরে সংবাদ সংগ্রহের পরিবেশ না থাকায় তারা স্থান ত্যাগ করেন।
এ ঘটনার পর সিলেটের স্থানীয় টেলিভিশন সাংবাদিকরা প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরসহ স্থানীয় বিএনপির পরবর্তী কর্মসূচিগুলোর সংবাদ সংগ্রহ থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নেন।
তবে সাংবাদিকদের এই সিদ্ধান্তের পর বিএনপির নেতারা সন্ধ্যায় ইমজা কার্যালয়ে গিয়ে দুঃখ প্রকাশ করায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শনিবারের বৈঠকে ঘটনার বিষয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা হবে এবং সাংবাদিকদের মতামতের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/আতা