ভাঙন ঠেকাতে ৩২৫ কোটির প্রকল্পে বালু নেওয়া হচ্ছে তীর থেকেই

আজমিরীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

সারাদেশ

আজমিরীগঞ্জে নদী ভাঙন ঠেকাতে এবং তীর, বসতবাড়ি, সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড ৩২৫ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে

2026-09-04T21:15:59+00:00
2026-09-04T21:15:59+00:00
 
  শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২০ ভাদ্র ১৪৩৩
শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
ভাঙন ঠেকাতে ৩২৫ কোটির প্রকল্পে বালু নেওয়া হচ্ছে তীর থেকেই
আজমিরীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৫ পিএম 
আজমিরীগঞ্জে তীর থেকেই উত্তোলন করা হচ্ছে বালু । ছবি : সময়ের আলো
আজমিরীগঞ্জে নদী ভাঙন ঠেকাতে এবং তীর, বসতবাড়ি, সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড ৩২৫ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে। প্রকল্পের আওতায় নদীর ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন অংশে জিও ব্যাগ ও কংক্রিটের ব্লক বসানোর কাজ বাস্তবায়নাধীন। অথচ সেই প্রকল্পের কাজে কালনী-কুশিয়ারা নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করে সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলন চললেও বিষয়টি বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর তৎপরতা দেখা যায়নি।

সরেজমিন গেলে স্থানীয়রা জানান, উপজেলার বদলপুর ইউনিয়নের কালনী-কুশিয়ারা নদীতে একাধিক ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। দিনের তুলনায় রাতে ড্রেজার চালানো হয় বেশি। বালু উত্তোলনের পর রাতের বেলা নৌযানের মাধ্যমে তা বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে সেই বালু বদলপুর ইউনিয়নের পিরিজপুর ফেরিঘাট এলাকায় তীর সংরক্ষণ কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে সরবরাহ করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এমন কার্যক্রম চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

Advertisement
স্থানীয়দের দাবি, যে এলাকা থেকে বালু উত্তোলন করা হয়, সেখানে কোনো বৈধ বালুমহাল নেই। তা সত্ত্বেও বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এভাবে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক গঠন ও তলদেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। কোথাও কোথাও সৃষ্টি হচ্ছে গভীর গর্ত। এতে স্রোতের গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে নদীতীর ভাঙনের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। তারা বলেন, নদীভাঙন রোধে সরকার যখন শত শত কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে, তখন সেখান থেকেই অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। এ বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানান তারা।


এদিকে প্রায় দুই বছর আগে রাতের আঁধারে কালনী-কুশিয়ারা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান চালিয়েছিল উপজেলা প্রশাসন। তৎকালীন ইউএনও নিবিড় রঞ্জন তালুকদারের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে বালুবোঝাই নৌকাসহ একজনকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে এ ঘটনায় স্থানীয় সুহেল মিয়া ও তার বড় ভাই ফজলুকে আসামি করে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এরপর কিছুদিন বালু উত্তোলন বন্ধ থাকলেও আবারও রাতের আঁধারে উত্তোলন শুরু হয়েছে।

তবে নদী থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগের বিষয়ে সুহেল মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

যোগাযোগ করলে হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান বলেন, প্রকল্পের কাজের জন্য বেশ কয়েকজন ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে। আরও ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান। প্রতিটি প্যাকেজেই জিও ব্যাগের জন্য বালুর সংস্থান রয়েছে। ঠিকাদাররা বৈধ উৎস থেকে বালু সংগ্রহ করবেন। রাতের আঁধারে নদী থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

আজমিরীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. জসীম উদ্দীন চৌধুরী জানান, এ বিষয়ে তিনি অবগত নন। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিবেন।

সময়ের আলো/আতা
  বিষয়:   নদী ভাঙন  প্রকল্প  বালু মহাল  তীর  সময়ের আলো  হবিগঞ্জ  আজমিরীগঞ্জ 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: