টানা পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পরে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে পণ্য আমদানি-রফতানি কার্যক্রম পুনরায় শুরু হচ্ছে। ভারতের অভ্যন্তরীণ ব্যবসায়িক জটিলতার কারণে রোববার থেকে স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ ছিল। তবে আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকলেও হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে দুই দেশের বৈধ পাসপোর্টধারী যাত্রীদের পারাপার স্বাভাবিক ছিল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ভারতের হিলি এক্সপোর্টার্স অ্যান্ড কাস্টমস ক্লিয়ারিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বৃহস্পতিবার দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের পর ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক বিকাশ চন্দ্র মণ্ডল স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে শুক্রবার বাংলাদেশের বাংলাহিলি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের বিষয়টি জানানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, রোববার ব্যবসা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে হিলি স্থলবন্দরে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট সমস্যা নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা ও সমাধানের আশ্বাস পাওয়ার পর শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) থেকে হিলি বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ধর্মঘট চলাকালে দুই দেশের মধ্যে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকায় বন্দরের কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়ে। এতে আমদানি-রফতানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, পরিবহন শ্রমিক ও বন্দরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েন।
ভারতের হিলি এক্সপোর্টার্স অ্যান্ড কাস্টমস ক্লিয়ারিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বিকাশ চন্দ্র মণ্ডল বলেন, প্রশাসনের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবির বিষয়ে আলোচনা শেষে ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় শনিবার থেকে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম শুরু হবে।
এদিকে বাংলাহিলি কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহীনুর ইসলাম শাহিন মণ্ডল বলেন, ভারতীয় ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট প্রত্যাহারের বিষয়টি চিঠির মাধ্যমে আজ জানিয়েছেন। বৈঠকের সিদ্ধান্তের বিষয়টি বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জানানো হয়েছে।
ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট সূত্র জানা গেছে, ভারতীয় ব্যবসায়ীদের ধর্মঘটের কারণে বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও দুই দেশের বৈধ পাসপোর্ট যাত্রীদের পারাপার স্বাভাবিক ছিল।
টানা পাঁচ দিন বাণিজ্য বন্ধ থাকায় বন্দরকেন্দ্রিক ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। আমদানি-রফতানি চালু হলে তা অনেকটাই কাটবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একইসঙ্গে বন্দরে আবারও ফিরবে কর্মচাঞ্চল্য।
সময়ের আলো/এনএন