দিনাজপুরের বিরামপুরে হাফেজিয়া মাদরাসার তিন শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে আটকের পর গণধোলাই দিয়ে আলী হাসান (২৫) নামের এক মাদরাসা শিক্ষককে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছে গ্রামবাসী। ঘটনায় ভুক্তভোগী এক শিশুর বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন।
এর আগে, শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভোর ৬টার দিকে উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের চড়াইভিটা গ্রামের একটি মাদরাসা থেকে ওই শিক্ষককে আটক করে পুলিশ। পরে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
গ্রেফতারকৃত আলী হাসান দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার তিখুর বাজার এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শামীম আল মামুন।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের একটি গ্রামের তিন শিক্ষার্থী গত দেড় বছর ধরে ওই হাফেজিয়া মাদরাসায় লেখাপড়া করছে। লেখাপড়া চলাকালীন বিভিন্ন সময়ে ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখিয়ে ওই মাদরাসার শিক্ষক আলী হাসান তার শয়নকক্ষে ওই তিন শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করে আসছেন। সেইসঙ্গে বিষয়টি পরিবারের কাউকে না জানার জন্য ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
এরই ধারাবাহিকতায় ২৬ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে শিক্ষক আলী হাসান একজন শিক্ষার্থীকে এবং গত ১ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টায় ও সাড়ে ১১টার দিকে দুইজন শিক্ষার্থীকে তার শয়নকক্ষে ডেকে নিয়ে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করে। এ ঘটনার পর বাদীর ছেলে ও অপর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বিষয়টি তাদের পরিবারকে জানায়।
পরে, স্থানীয় লোকজন বিষয়টি জানতে পারলে অভিযুক্ত শিক্ষক আলী হাসান মাদরাসা থেকে পালিয়ে যান। শুক্রবার ভোরে ভুক্তভোগী শিশুদের পরিবার ও স্থানীয় জনতা ওই শিক্ষককে মাদরাসা থেকে আটক করে গণধোলাই দেয়। পরে, পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে আলী হাসানকে সোপর্দ করে এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে, বিরামপুর পরিদর্শক (তদন্ত) শামীম আল মামুন বলেন, বিরামপুর উপজেলার একটি হাফেজিয়া মাদরাসায় তিন শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে স্থানীয় জনতা আলী হাসান নামের এক শিক্ষককে আটক করে পুলিশের নিকট সোপর্দ করেছে। এ ঘটনায় থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা হয়েছে।
আসামিকে শুক্রবার বিকেলে দিনাজপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া, ভুক্তভোগী তিন শিক্ষার্থীকেও ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট ২২ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সময়ের আলো/আতা