সংসারের অভাব ঘোচাতে প্রায় তিন বছর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাড়ি জমিয়েছিলেন ২৫ বছরের জামশেদুল ইসলাম। চোখে ছিল পরিবারের সচ্ছলতার স্বপ্ন। প্রবাসে দিনরাত পরিশ্রম করে একদিন প্রিয়জনদের মুখে হাসি ফোটাবেন— এমন আশাতেই দূর দেশে কাটছিল তার দিন।
কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। ১৬ আগস্ট নির্মাণশ্রমিকের কাজ করার সময় সিঁড়ি থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে ১৩ দিন আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত না ফেরার দেশে চলে গেলেন বোয়ালখালীর এই তরুণ।
শুক্রবার তার মরদেহ যখন বাড়ির আঙিনায় পৌঁছায়, তখন স্বজনদের অপেক্ষার অবসান হয় ঠিকই; তবে সেই অপেক্ষার শেষটা ছিল নিদারুণ বেদনার। যে ছেলেকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় দিন গুনছিল পরিবার, তাকে ফিরতে হলো নিথর হয়ে।
নিহত জামশেদুল ইসলাম উপজেলার শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের হাজী আব্দুস সালামের বাড়ির মো. নজরুল ইসলামের ছেলে। ছয় বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। ছোট ভাইয়ের মরদেহ দেখে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। বাড়ির পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে আহাজারিতে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, আবুধাবির মুসাফ্ফা এলাকা থেকে আল-আইন এলাকায় নির্মাণকাজে যান জামশেদুল। সেখানে একটি ভবনে কাজ করার সময় সিঁড়ি থেকে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান তিনি। সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।
১৩ দিনের লড়াই শেষে ২৯ আগস্ট চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। শুক্রবার দেশে আনা হয় জামশেদুলের মরদেহ। আসরের নামাজের পর তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় লোকজন অংশ নেন। পরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় তাকে।
প্রবাসে যাওয়ার আগে হয়তো জামশেদুলেরও ছিল অনেক স্বপ্ন— একদিন নিজের ভাগ্য বদলাবেন, পরিবারের কষ্ট দূর করবেন। সেই স্বপ্নের পথে পাড়ি জমিয়েছিলেন হাজার মাইল দূরে। শেষ পর্যন্ত পরিবারের সচ্ছলতার সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। বরং প্রিয় মানুষটির নিথর দেহ কাঁধে নিয়েই শেষ বিদায় জানাতে হলো স্বজনদের।
জামশেদুলের চলে যাওয়ায় শুধু একটি পরিবারের স্বপ্নই থেমে যায়নি, থেমে গেছে এক তরুণ জীবনের অসংখ্য সম্ভাবনাও। বাড়ির উঠানে এখন তার ফেরার অপেক্ষা নেই; আছে শুধু স্মৃতি আর স্বজনদের কান্না।
সময়ের আলো/আতা