সরকারি সংস্থাগুলোকে দায়মুক্তি দিয়ে রিপোর্ট, তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

সারাদেশ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজের ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে ১০ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় সরকারি সংস্থাগুলোর তদারকির গাফিলতি এড়িয়ে

2026-09-04T19:19:21+00:00
2026-09-04T19:19:21+00:00
 
  সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬,
৩ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
সীতাকুণ্ড গ্যাস ট্র্যাজেডি
সরকারি সংস্থাগুলোকে দায়মুক্তি দিয়ে রিপোর্ট, তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১৯ পিএম 
সীতাকুণ্ডের শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি। ছবি : সময়ের আলো
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজের ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে ১০ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় সরকারি সংস্থাগুলোর তদারকির গাফিলতি এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি কেবল ইয়ার্ড মালিকের চরম অবহেলা খুঁজে পেলেও, ছাড়পত্র বা সনদ প্রদানকারী সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো দায়িত্বহীনতা বা গাফিলতি খুঁজে পায়নি।

গত ১৪ আগস্টের ওই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম বেনজামিন রিয়াজীকে প্রধান করে ১১ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সম্প্রতি জমা দেওয়া সাত-আট পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষের অন্তত ছয়টি মারাত্মক অবহেলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে জানা যায়, ঘটনার দিন জাহাজের ৩ নম্বর ব্যালাস্ট ওয়াটার ট্যাংক ছিদ্র করে কাজ করার সময় শ্রমিকদের কারো মুখে গ্যাস মাস্ক ছিল না। অধিকন্তু, ছুটির দিনে এমন ঝুঁকিপূর্ণ কাজের সময় ইয়ার্ডে কোনো সেফটি ম্যানেজার, ডাক্তার, অ্যাম্বুলেন্স কিংবা জরুরি উদ্ধারকারী দল উপস্থিতি ছিল না। এমনকি দুর্ঘটনাকবলিত স্থানে নিহত শ্রমিকদের মধ্যে মাত্র একজন বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ড অনুমোদিত সনদপ্রাপ্ত ছিলেন, বাকি চারজন অপ্রশিক্ষিত।

তবে সংক্ষুব্ধ মহল প্রশ্ন তুলেছেন সরকারি সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়ে। 'দ্য শিপব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইক্লিং রুলস-২০১১' অনুযায়ী, কোনো জাহাজ কাটার আগে সব ধরনের ট্যাংক পরীক্ষা করে 'সেফ ফর ম্যান এন্ট্রি' ও 'গ্যাস ফ্রি ফর হট ওয়ার্ক' সনদ দেওয়া বিস্ফোরক অধিদপ্তরের আইনি বাধ্যবাধকতা। অথচ কোনো প্রকার পরিদর্শন ছাড়াই বিস্ফোরক অধিদপ্তর ওই জাহাজটিকে নিরাপদ সনদ দিয়ে দিয়েছিল।


ইয়ার্ডে তদারকির দায়িত্বে থাকা 'বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ড' ও 'পরিবেশ অধিদপ্তর'-এর অবহেলাকেও তদন্ত প্রতিবেদনে পরিষ্কার আড়াল করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নথিপত্র পর্যালোচনায় প্রশাসনিক প্রক্রিয়াগুলোকে 'যথাযথ অনুসরণ করা হয়েছে' বলে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করে জানান, যথাযথ যাচাই ছাড়াই অনুমোদন দেওয়া দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত ছিল। একই সঙ্গে এটি অপরাধমূলক হত্যাকাণ্ড কি না তা বিবেচনা করে ইয়ার্ড মালিককে গ্রেফতার করা দরকার ছিল। সরকারি কর্মকর্তা ও মালিকদের সুনির্দিষ্ট দায় নির্ধারণ না করলে এ ধরনের তদন্ত প্রতিবেদন কেবল কাগজের টুকরো হয়েই থাকবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সময়ের আলো/আতা
  বিষয়:   সীতাকুণ্ড  গ্যাস ট্র্যাজেডি  সীতাকুণ্ড গ্যাস ট্র্যাজেডি  চট্টগ্রাম  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: