জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক পদ থেকে আফসানা বেগমকে অব্যাহতি দিয়েছে অন্তবর্তী সরকার। তার পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে কবি-প্রবন্ধকার এ এইচ এম সাখাওয়াত উল্লাহকে (সাখাওয়াত টিপু)। গতকাল মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে এসব সিদ্ধান্তের তথ্য জানানো হয়।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ মামুন শিবলীর সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র আইন, ১৯৯৫ এর ধারা-১০(২) অনুযায়ী এ এইচ এম সাখাওয়াত উল্লাহকে অন্য যে কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান/সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে এক বছর মেয়াদে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হলো। এই নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
প্রজ্ঞাপনে জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান আফসানা বেগম। তখন এই নিয়োগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, অন্যান্য প্রতিষ্ঠান-সংগঠনের সঙ্গে কর্মসম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে এই নিয়োগ দেওয়া হলো। নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্র দিয়ে নির্ধারিত হবে। তার মেয়াদ হবে দুই বছর।
কিন্তু মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই আফসানা বেগমের নিয়োগ বাতিল করা হলো। এ বিষয়ে আফসানা বেগম জানিয়েছেন, তার নিয়োগ বাতিল এবং নতুন পরিচালকের বিষয়টি তিনি জানতেন না। কক্সবাজার থাকার সময়ে প্রজ্ঞাপনের বিয়ষটি জানতে পারেন।
এদিকে, চার দিনের প্রশিক্ষণের জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে তিনি গত সোমবার কক্সবাজারে যান আফসানা বেগম। এই প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার কথা আগামীকাল বৃহস্পতিবার। কিন্তু গতকাল রাতে তিনি মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত পান। বুধবার সকালে তিনি ঢাকার ফিরেছেন।
প্রসঙ্গে আফসানা বেগম বলেন, ‘আমাকে আগে কিছুই জানানো হয়নি। একটা প্রশিক্ষণের জন্য গত সোমবার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে কক্সবাজার যাই আমি। প্রশিক্ষণ ছিল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। প্রজ্ঞাপন জারির পরে সকালে ঢাকা ফিরেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাকে কী কারণে বাদ দেওয়া হলো তা জানি না। এটি আমার জন্য আকস্মিক। আমি আমার দায়িত্বকালে সাধ্যমতো কাজ করার চেষ্টা করেছি। যেহেতু, সরকার আমার বিষয়ে একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাই এ ব্যাপারে কিছু বলার নেই।’
জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হয়। মন্ত্রণালয়ের সচিবের একান্ত সচিব (উপসচিব) সাইফুল ইসলামকে ফোন করা হলে নিয়োগ বা অব্যাহতির বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারবেন না বলে জানান। তিনি বলেন, ‘এটি জনপ্রশাসনের কাজ।’
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মামুন শিবলী বলেন, ‘আফসানা বেগমের নিয়োগ বাতিলের বিষয়ে তাকে সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করে জানানো হয়েছে। জেনেও যদি না জানার কথা বলেন, তাহলে তো আমাদের কিছু বলার নেই।’
তিনি বলেন, ‘মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি এসেছে, আফসানা বেগমকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন একজনকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য। আমরা শুধু আদেশ বাস্তবায়ন করেছি। মন্ত্রণালয়ের একটি প্রক্রিয়া রয়েছে। অনুমোদন (অ্যাপ্রুভাল) হয়ে তারপর আমাদের কাছে আসে। এটা তো দীর্ঘ প্রক্রিয়া। তাই আফসানা বেগমের না জানার কথা না।’
সময়ের আলো/এনএ