হরর-কমেডি ঘরানার আলোচিত সিনেমা ‘ভানুপ্রিয়া ভূতের হোটেল’ মুক্তির অপেক্ষায়। ছবির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করা টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী সম্প্রতি শেয়ার করলেন নিজের জীবনের এক রোমহর্ষক অভিজ্ঞতার কথা, যা আজও তাকে তাড়া করে ফেরে।
পরিচিতি পর্বে ভূত-প্রেত নিয়ে নানা গল্প উঠে এলেও উত্তরবঙ্গে শুটিং চলাকালীন সহ-অভিনেত্রী স্বস্তিকা দত্ত যেখানে অতিপ্রাকৃত ঘটনার ইঙ্গিত পেয়েছিলেন, সেখানে মিমি ছিলেন একেবারেই নির্বিকার। মজা করে তিনি বলেন, ‘আমি তো উত্তরবঙ্গেরই মেয়ে, হয়তো ভূত আমাকে ভয় পায়!’
তবে বাস্তব জীবনে এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি যে তিনি হয়েছিলেন, তা অকপটে স্বীকার করেন মিমি। ঘটনাটি ঘটেছিল তুরস্কের ইস্তানবুলে, ‘গ্যাংস্টার’ সিনেমার শুটিংয়ের সময়।
আরও পড়ুন
সেই রাতের কথা স্মরণ করে মিমি জানান, প্রচণ্ড ক্লান্ত শরীর নিয়ে ঘুমাতে যাওয়ার পর হঠাৎই তার শরীর অবশ হয়ে আসে। ‘আমি শ্বাস নিতে পারছিলাম না, হাত-পা বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিল। নড়াচড়া করতে পারছিলাম না, অথচ মাথা পুরো সচেতন ছিল,’-বলেন তিনি।
প্রথমে বিষয়টিকে স্লিপ প্যারালাইসিস ভেবে নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। মিমির ভাষায়, ‘আমি স্পষ্ট বুঝতে পারছিলাম কেউ যেন আমার বিছানার চারপাশে হাঁটছে। ঘাড় থেকে চোখ পর্যন্ত ঠান্ডা নিঃশ্বাস অনুভব করছিলাম। মনে হচ্ছিল কেউ জোর করে চোখ খুলে দিতে চাইছে।’
ভয়ে শরীর ঘামে ভিজে গেলেও কিছুই করতে পারছিলেন না তিনি। দীর্ঘ সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তের অবসান ঘটে ভোর ৪টার দিকে, যখন আজানের শব্দ ভেসে আসে। ‘হঠাৎই মনে হলো শরীরটা হালকা হয়ে গেছে। আবার শ্বাস নিতে পারলাম,’-বলেছেন মিমি।
এরপরই চিৎকার করে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন তিনি। এই অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে মিমি বলেন, ‘আজও নিজেকে বোঝাই, হয়তো ওটা একটা দুঃস্বপ্ন ছিল। কিন্তু যা অনুভব করেছি, তা এতটাই বাস্তব যে আমি কখনো ভুলতে পারব না। এই কথা আমি খুব অল্প মানুষের সঙ্গেই ভাগ করেছি।’
এএডি/