আগামী ২৫ জানুয়ারি থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধন কার্যক্রম চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ এস এম হুমায়ুন কবীর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করতে এনআইডি সংশোধন (কতিপয় সংশোধন ব্যতীত) কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছিল। আগামী ২৫ জানুয়ারি তা আবার পুরোদমে চালু করা হবে।’
এদিকে, অন্যের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বহন কিংবা হস্তান্তর করা যাবে না বলে জানিয়েছে ইসি। বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জনসংযোগ শাখার পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক সই করা এক চিঠি থেকে এ তথ্য জানা যায়।
চিঠিতে বলা হয়, নির্বাচনি প্রচারণার আড়ালে কতিপয় ব্যক্তি কর্তৃক ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য এবং জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংগ্রহের বিষয়টি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের নজরে এসেছে। জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন আইন-২০১০ অনুযায়ী অন্যের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বহন কিংবা হস্তান্তর করা যাবে না।
এতে আরও বলা হয়, সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫’-এর বিধি-৪ অনুযায়ী কোনও রাজনৈতিক দল, প্রার্থী কিংবা তার পক্ষে অন্য কেউ নির্বাচনি এলাকায় বসবাসকারী ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের চাঁদা, অনুদান বা উপহার প্রদান করতে বা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিতে পারবেন না।
চিঠিতে আরও বলা হয়, এসব কার্যক্রম বিধি অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। নির্বাচন কমিশন সকল নাগরিক ও সংগঠনকে উল্লিখিত কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে ভোটের প্রচারণার আড়ালে ভোটারদের এনআইডি সংগ্রহের অভিযোগ দাখিল করেছে বিএনপি।
প্রসঙ্গত, এবার দেশে ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ১৪ হাজার ৯০৭ জন, মহিলা ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৭৯ হাজার ৪২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৩৪ জন। চলতি বছরের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত যাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়েছে, তাদের নিয়ে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রস্তুত করেছে নির্বাচন আয়োজনকারী সংস্থাটি।
সময়ের আলো/এনএ