বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে ভ্রমণে ব্রিটিশ নাগরিকদের সতর্ক করেছে লন্ডন। তবে বিশেষ সতর্কতা দেওয়া হয়েছে পার্বত্য তিন জেলায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া এসব এলাকায় ভ্রমণের প্রতি কঠোর নিষেধাজ্ঞা মানতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও) বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে হালনাগাদ এই ভ্রমণ সতর্কতা প্রকাশ করেছে ।
এফসিডিওর দেওয়া তথ্যমতে, বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আর নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হয়েছে ২২ জানুয়ারি থেকে, এই অবস্থায় এফসিডিও চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণ না করতে পরামর্শ দিচ্ছে। এই এলাকায় নিয়মিত সহিংসতা ও অন্যান্য অপরাধমূলক ঘটনার খবর পাওয়া যাচ্ছে, বিশেষ করে দুর্গম এলাকাগুলোতে এর মাত্রা বেশি হওয়ায় এসব এলাকা ভ্রমণে সতর্ক করা হচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের এই তিন জেলা হলো রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান।
মূলত সন্ত্রাসবাদ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এফসিডিও সতর্ক করেছে, এই সময়ে সন্ত্রাসীরা হামলা চালানোর চেষ্টা করতে পারে।
সতর্কবার্তায় বলা হয়, এসব হামলা নির্বিচারে হতে পারে এবং বিদেশি নাগরিকদের যাতায়াতের স্থানগুলোও এর লক্ষ্য হতে পারে। সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে-সরকারি ও বেসরকারি ভবন, রেস্তোরাঁ ও ক্যাফে, গণপরিবহণ, জনাকীর্ণ এলাকা, ধর্মীয় স্থাপনা ও রাজনৈতিক সমাবেশ।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে বাংলাদেশে গণ-অভ্যুত্থান ঘটে এবং সে সময় দেশজুড়ে ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে, ফলে বহু মানুষ নিহত ও আহত হন জানিয়ে এফসিডিও বলে, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও পরিস্থিতি এখনো অস্থিতিশীল। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিয়মিত সমাবেশ ও বিক্ষোভ করছে, যা খুব দ্রুত সহিংসতায় রূপ নিতে পারে এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে বলেও জানানো হয়।
বিশেষ করে ‘হরতাল ও বিক্ষোভের সময়’ দেশের বিভিন্ন শহরে অগ্নিসংযোগ, সহিংসতা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে, যা প্রাণহানির কারণও হতে পারে বলে আশঙ্কা ব্যক্ত করে ব্রিটিশ নাগরিকদের সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে এফসিডিও। তবে এফসিডিও আরও বলেছে, মাঝেমধ্যে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এ ছাড়া পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীকেও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলার মধ্যে বড় শহরগুলোতে ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) ব্যবহার করে বিস্ফোরণের ঘটনাও রয়েছে বলে জানানো হয়।
এফসিডিও জনগণকে দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির প্রতি সতর্ক থাকতে বলেছে। বিক্ষোভ, রাজনৈতিক সমাবেশ ও বড় জমায়েত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোথাও বিক্ষোভ শুরু হতে দেখলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়াও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করতে এবং স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর নিয়মিত দেখতে বলা হয়েছে। ভ্রমণ সতর্কতা হালনাগাদ হলে ই-মেইল নোটিফিকেশন নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছে এফসিডিও।
/ইউএমএইচ