প্রকাশ: সোমবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:২৪ এএম আপডেট: ২৬.০১.২০২৬ ১০:২৫ এএম (ভিজিট : ১১৮)
সগিরা গুনাহের কাফফারা। ছবি : সংগৃহীতআল্লাহর অবাধ্যতামূলক যেকোনো কাজকে বলা হয় গুনাহ বা পাপ। পাপকে দুই প্রকারে ভাগ করা হয়, কবিরা বা বড় এবং সগিরা বা ছোট। যেসব পাপের ব্যাপারে কোনো শাস্তি, আল্লাহর ক্রোধ বা অভিশাপের কথা বলা হয়নি; বরং শুধুই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, সেসব হলো সগিরা বা ছোট গুনাহ। তবে সেসব গুনাহও কবিরা বা বড় গুনাহর অন্তর্ভুক্ত হবে, যার অনিষ্ট ও পরিণতি কোনো কবিরা গুনাহর অনুরূপ কিংবা তার চেয়েও অধিক। আবার যেসব ছোট গুনাহ নির্ভয়ে করা হয় কিংবা নিয়মিতভাবে করা হয়, সেগুলোও কবিরা গুনাহর অন্তর্ভুক্ত। গুনাহ কবিরা বা সগিরা যাই হোক, এর পরিণাম ভালো নয়। এর কারণে দুনিয়ার জীবনে আসে বিপদাপদ, পরকালে ভোগ করতে হবে জাহান্নামের কঠিন শাস্তি।
গুনাহ হয়ে গেলে দুনিয়ায় থাকা অবস্থায় তা থেকে মুক্ত হওয়া জরুরি। কিন্তু এই পাপের বোঝা কীভাবে হালকা করা যায়, কীভাবে মিটানো যায় তা নিয়ে অনেকেই ভাবি না। অথচ ইচ্ছে করলে পাপগুলো আমরা মিটিয়ে দিতে পারি তৎক্ষণাৎ। সেই পন্থা আল্লাহ তায়ালা নিজে আমাদের শিখিয়ে দিয়েছেন। নেক কাজের মাধ্যমে পাপ মিটানোর কথা বলেছেন তিনি। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তুমি নামাজ কায়েম করো দিবসের দুই প্রান্তভাগে এবং রজনির প্রথমাংশে। অবশ্যই নেক আমল পাপগুলো মিটিয়ে দেয়। যারা উপদেশ গ্রহণ করে, এ তাদের জন্য এক উপদেশ।’ (সুরা হুদ : ১১৪)
কতই না সুন্দর পথ, একটি নেক কাজই পারে আমাদের পাপগুলো মিটিয়ে দিতে। রাসুল (সা.) হজরত আবু জর (রা.)-কে বলেন, ‘হে আবু জর! যেখানেই থাকো আল্লাহকে ভয় করো এবং কোনো পাপ হয়ে গেলেই নেক আমল করো; তা তোমার পাপ মিটিয়ে দেবে’ (তিরমিজি : হাদিস ১৯৮৭)। এভাবেই পাপের কাফফরা হয় নেক আমল করার দ্বারা।
নেক কাজ নানাভাবে করা যেতে পারে। মানুষকে সালাম দেওয়ার মাধ্যমে আমরা নেকি অর্জন করতে পারি। চলতে-ফিরতে হরহামেশাই যেহেতু গুনাহের আশঙ্কায় থাকি, সর্বদাই গুনাহের জালে আবদ্ধ থাকি। তাই আমাদের সালাম একটি নেক কাজ। পথে বের হলেই আমরা পরিচিত-অপরিচিত ব্যক্তির মুখোমুখি হই। শুধু ছোট্ট করে একটি সালাম দিলেই হলো। দশটি নেকি আমাদের আমলনামায় জমা হয়ে যাবে। সঙ্গে সঙ্গে গুনাহের বোঝাও হালকা হবে। পাশাপাশি পরস্পর ভ্রাতৃত্ব আর মহব্বতের সেতুবন্ধও তৈরি হবে।
দান-সদকার মাধ্যমে নেক কাজ করতে পারি। অন্যকে সহযোগিতার মাধ্যমে করতে পারি। সর্বদা সত্য কথা বলার মাধ্যমে করতে পারি। সুযোগ হলে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করতে পারি। রাসুল (সা.) বলেন, ‘কারও কোনো পাপ হয়ে গেলে সে যদি উত্তমরূপে ওজু করে এবং দুই রাকাত নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে মাফ চায়, আল্লাহ তাকে মাফ করে দেন।’ (মুসনাদে আহমাদ : ২)
এভাবেই আমরা খুঁজে খুঁজে নেক কাজ করতে থাকলে আমাদের দ্বারা যদি কোনো গুনাহ হয়েও যায়, সেই নেক কাজগুলো গুনাহের কাফফারা হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। কেয়ামতের দিন যখন আমলনামা পাল্লায় তোলা হবে, আশা করা যায় আমাদের নেক আমলগুলো ছাড়িয়ে গুনাহের পাল্লা কিছুতেই ভারী হয়ে উঠতে পারবে না। এই ছোট ছোট নেক কাজগুলোই সেদিন পাহাড়সম হয়ে আমাদের নাজাতের উসিলা হবে। আল্লাহ সবাইকে বোঝার ও আমল করার তওফিক দিন।
সময়ের আলো/জেডআই