শিশুদের ভালোবাসা সুন্নত

জাকারিয়া মাহমুদ

শিশুরা পৃথিবীর ফুল ও প্রজাপতি। আমাদের প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিশুদের জান্নাতের প্রজাপতি বলেছেন। প্রজাপতি যেমন দৃষ্টিনন্দন শরীর নিয়ে বাগানের

2026-01-27T06:22:49+00:00
2026-01-27T06:23:17+00:00
 
  শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬,
১ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
শিশুদের ভালোবাসা সুন্নত
জাকারিয়া মাহমুদ
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:২২ এএম  আপডেট: ২৭.০১.২০২৬ ৬:২৩ এএম
প্রতীকী ছবি
শিশুরা পৃথিবীর ফুল ও প্রজাপতি। আমাদের প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিশুদের জান্নাতের প্রজাপতি বলেছেন। প্রজাপতি যেমন দৃষ্টিনন্দন শরীর নিয়ে বাগানের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। শিশুরাও আল্লাহ প্রদত্ত সৌন্দর্য ও শুভ্রতা নিয়ে পৃথিবীর সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। শিশুরা নিষ্পাপ, নিষ্কলুষ। তারা সবার প্রিয়, প্রেমময়। 

সবাই তাদের ভালোবাসে, কাছে টেনে নেয়। এ ভালোবাসা মহান আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টিগতভাবেই মানুষের অন্তরে দান করেছেন। আর আল্লাহর রাসুল (সা.) এ ভালোবাসার প্রয়োগ দেখিয়েছেন। শিখিয়েছেন তারা দুষ্টুমি করলে কেমন হবে আমাদের আচরণ, কেমন হবে ব্যবহার। কয়েকটি ঘটনার মধ্যে আমরা বিষয়টি জানার চেষ্টা করব।

ছোট্ট হাসান-হোসাইন। নবীজি (সা.)-এর নাতি বা দৌহিত্র। রাসুলকন্যা হজরত ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু আনহার কলিজার টুকরা সন্তান। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের প্রাণ উজাড় করে ভালোবাসতেন। 

তিনি বলতেন, ‘পৃথিবীতে তাঁরা হলো আমার দুটি সুগন্ধিময় ফুল।’ (তিরমিজি : ৩৭৭০)

যুগ যুগ ধরে মানবসভ্যতায় ফুলকে ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে দেখা হয়েছে। নবীকুলের সর্দার মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর দুই দৌহিত্রকে ফুলের সঙ্গে উপমা দিয়ে বুঝিয়েছেন তিনি তাঁদের কতটা ভালোবাসতেন।

সাধারণত এমন হতো, রাসুলুল্লাহ (সা.) নামাজ পড়ছেন। আল্লাহর সামনে সেজদায় লুটিয়ে পড়েছেন। তখন হাসান-হোসাইন পিঠে চড়ে বসতেন আর নামতে চাইতেন না। এত সুন্দর স‌ওয়ারি, নামতে ইচ্ছা হয়! নবীজি (সা.) সেজদা লম্বা করে তাঁদের সুযোগ করে দিতেন। ছোট্ট হাসান-হোসাইন যখন আপন ইচ্ছায় নেমে যেতেন, তখন নবীজি (সা.) সেজদা থেকে মাথা তুলতেন।

নবীজি (সা.) বসে আছেন বৈঠকে। অমনি ছোট্ট হাসান-হোসাইন নবীজি (সা.)-এর কাঁধে উঠে বসতেন। আরাম করে বসে থাকতেন কাঁধের ওপর। নবীজি (সা.) তাঁদের একটুও বারণ করতেন না।

শুধু কি ছেলেশিশুরা, মেয়েশিশুরাও একই কাণ্ড করত। ছোট্ট শিশু উমারাহ। রাসুলকন্যা হজরত জায়নাবের কলিজার টুকরা সন্তান। নবীজি (সা.) তাঁকেও খুব ভালোবাসতেন। একবার নবীজি (সা.) নামাজ আদায় করছেন এক মনে, খুশুখুজুর সঙ্গে। পাশে বসে ছিল উমারাহ। চঞ্চল উমারাহ কি শান্তভাবে বসে থাকার পাত্র। ঠেলে উঠল নবীজি (সা.)-এর কাঁধে। উঠেছে তো উঠেছে, আর নামার নাম নেই। একপর্যায়ে তাঁকে কাঁধে নিয়েই দাঁড়ালেন নবীজি (সা.)। তিনি রুকুতে যাবেন, কিন্তু উমারাহ কাঁধে। এভাবে রুকুতে গেলে পড়ে যাবে, ব্যথা পাবে। তখন তাঁকে নামিয়ে দিলেন। তারপর রুকু করে সেজদায় যেই মাথা রাখলেন, অমনি উমারাহ চড়ে বসল কাঁধে। আর নামে না এবং এভাবেই নবীজি (সা.) নামাজ শেষ করলেন।

প্রখ্যাত সাহাবি মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু। তিনি ছিলেন মুসলিম জাহানের খলিফা। এক লোক তার বাড়িতে এলো একদিন। কিন্তু খলিফাকে যে অবস্থায় দেখলেন, তার জন্য সে একটুও প্রস্তুত ছিল না। বিস্ময়ে চোখ তার কপালে। দেখলেন একটা শিশু খলিফার গলায় রশি লাগিয়ে টানছে। আর খলিফা হাম্বা হাম্বা করে চার হাত-পায়ে শিশুটির পেছনে চলছে। তাতে শিশুটি আনন্দে খিলখিলিয়ে হাসছে।

এ অবস্থা দেখে অবাক হয়ে লোকটি বলল, হে খলিফাতুল মুসলিমিন, আপনার একি কাণ্ড! খলিফা মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু তাকে ধমক দিয়ে বললেন, চুপ করো। শিশুদের আদর করা এবং আনন্দ দেওয়া আমরা নবীজি (সা.) থেকে শিখেছি। নবীজি (সা.) বলেছেন শিশুদের সঙ্গে তোমরা শিশুর মতো খেলা করবে। যাতে তারা আনন্দ পায়। 

এমন অসংখ্য ঘটনা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে নবীজি (সা.)-এর জীবনীতে। শিশুরা হলো ফুলের মতো নিষ্পাপ, নিষ্কলুষ। তাদের আঘাত করা, ধমক দেওয়া সুন্নাহবিরোধী। কখনোই উচিত নয়। বড়দের উচিত আদর করে বুঝিয়ে দেওয়া, এমনটাই ইসলামের শাশ্বত শিক্ষা।

এফআর
  বিষয়:   শিশু  ভালোবাসা  সুন্নত  ইসলাম 


Advertisement
Loading...
Loading...
- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: